দেশজুড়ে

দুধ বিক্রির টাকায় ছেলেকে বিদেশ পাঠালেন বাবা

গরুর দুধ বিক্রি করেন তিনি। সবাই তাকে ‘দুধ আলা’ বলেই চেনেন। যদিও তার ডাক নাম ইউনুস সরদার। কিন্তু তার সচচেয়ে বেশি পরিচিতি দুধআলা হিসেবে। বয়স সত্তরে গিয়ে ঠেকেছে। ৪৫ বছর ধরে গরুর দুধ বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন ইউনুস সরদার। দুধ বিক্রির সামান্য আয়ে চলে তার সংসার। প্রতিদিন পাঁচ কলসিতে করে ১০০ লিটার গাভির দুধ বিক্রি করেন তিনি। এতে প্রতিদিন ৫ হাজার টাকার দুধ বিক্রি করে ১ হাজার টাকা থাকে তার। এক সময় খুব কষ্ট করে সংসার চালালেও বর্তমানে তিনি শান্তিতে বসবাস করতে পারছেন।ডামুড্যা উপজেলা ও সদর উপজেলায় ঘুরে ঘুরে তিনি গাভির দুধ বিক্রি করে থাকেন। কিছু পরিবারে প্রতিদিন রোজ হিসেবে গাভির দুধ দিয়ে থাকেন। আর যা দুধ থাকে তা দুই উপজেলাতে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন ইউনুস সরদার।তবে তার বাবার মতোই প্রাথমিক বিদ্যালয় পার করতে পারেননি তিনিও। কারণ তার বাবার সংসার ছিল অভাব অনটনের। তাই তিনি পড়া লেখা ছেড়ে ধরেছেন সংসারের হাল। আগে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করতেন। তাতে সংসার চলতো না। তাই পাশাপাশি দুধ বিক্রি শুরু করেন তিনি। ইউনুস সরদার জেলার ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের চর মালগাঁও গ্রামের মৃত. সরদারের ছেলে। তার ২ ছেলে ৭ মেয়ে। এতো পেশা থাকতে গাভির দুধ বিক্রি করাকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়া প্রসঙ্গে বলেন, যখন আমি ছোট ছিলাম। তখন গরুর দুধ বিক্রি করে যা আয় হতো তাতেই খুশি ছিলাম। আগে আমি গ্রাম ধেকে গরুর দুধ কেনে গ্রামেই বিক্রি করতাম। বিক্রি করে যা আয় হতো তা জমিয়ে এখন গ্রাম ও গ্রামেরবাজার থেকে পাইকারি দুধু কেনতে পারি। এখন মাসে আমার আয় ৩০ হাজার টাকা। গাভির দুধ বিক্রি করে আমার সংসারে পরিবর্তন এবং সুখ এসেছে। আমি গরুর দুধ বিক্রি করে আমার এক ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছি। ছয় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি।তিনি আরো বলেন, ৪৫ বছর ধরে জেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং ডামুড্যা ও সদরে গরুর দুধ বিক্রি করি। এখন এই পেশাতেই আমার সংসার চলছে। আমি সন্তুষ্ট। আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এটা করতে চাই।মো. ছগির হোসেন/এএম/আরআইপি