দেশজুড়ে

সমস্যা জর্জরিত ভোলার বক্ষব্যাধি হাসপাতাল

একজন চিকিৎসকও নেই ভোলার একমাত্র বক্ষব্যাধি ক্লিনিক ও হাসপাতালে। এছাড়াও নার্স, টেকনোলজিস্ট  ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে এ হাসপাতাল। ফলে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। অতিরিক্ত একজন দায়িত্বে থাকলেও রোগীরা নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন না। এদিকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ থাকলেও সেবার অভাবে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। কেউ কেউ আবার জেলার বাইরে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। তবে দরিদ্র রোগীরা রয়েছেন চরম বিড়ম্বনার মধ্যে।হাসপাতাল সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পরে ভোলা জেলা সদর হাসপাতালের পেছনের অংশে স্থাপিত হয় বক্ষব্যাধি ক্লিনিক ও হাসপাতাল। সেই থেকেই জেলার যক্ষা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে এ হাসপাতালটি। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন রোগী হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসাসেবা, ব্যবস্থাপত্র ও ওষুধ নিয়ে থাকেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় চরম বিপাকে পড়তে হয় রোগীদের। বিশেষ করে একটি মেডিকেল ও একটি কনসালটেন্ট না থাকায় আরো বেশি সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের দেয়া তথ্যমতে, জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৩০০ যক্ষা রোগী রয়েছেন। জেলা হাসপাতাল ছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ক্লিনিকগুলোতে এ রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। সূত্র জানায়, হাসপাতালে একটি জুনিয়র কনসালটেন্ট, একটি মেডিকেল অফিসার, একটি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, একটি রেডিওগ্রাফি, একটি টেকনোলজিস্ট ল্যাব, একটি ফার্মাসিস্ট ও একটি নার্সের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়াও শূন্য রয়েছে চতুর্থ শ্রেণির দুটি পদও। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। সপ্তাহে পাঁচ দিন উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও নার্স ও চিকিৎসকদের নিয়মিত পাওয়া যায় না। ফলে রোগীদের চিকিৎসা নিতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অত্যাধুনিক মেশিন থাকলেও অপারেটরের অভাবে তা চালু করা হয়নি। ফলে সামান্য পরীক্ষার জন্য রোগীদের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিকে ছুটতে হয়।তবে জেলার এ বক্ষব্যাধি ক্লিনিক ও হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ এবং আধুনিক সরঞ্জাম থাকলেও জনবল সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবায় কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না বলে দাবি করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিগত বছরগুলোতে যক্ষা রোগীর সংখ্যা বেশি থাকালেও বর্তমানে রোগীর চাপ অনেক কমে এসেছে বলেও দাবি তাদের।হাসপাতালের দায়িত্বরত এক কর্মচারী বলেন, আমাদের হাসপাতালে রোগী এলে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়, যাদের রেফার্ড করা লাগে, তাদের রেফার্ড করে দেয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় তেমন সমস্যা নেই।স্থানীয়রা জানান, অন্য জেলার তুলানায় ভোলায় যক্ষা রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম। রোগীর জটিলতা বেশি থাকলে তাদের জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়।এ ব্যাপারে ভোলার সিভিল সার্জন রথিন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন, চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগিরই চিকিৎসক ও নার্স পদায়ন করা হবে বলে আশা রাখছি।ছোটন সাহা/এফএ/এনএইচ/এমএস