দেশজুড়ে

চিনিকলের জমিতে সাঁওতালদের পুনর্বাসনের সুযোগ নেই

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকলের জমিতে সাঁওতালদের পুনর্বাসনের সুযোগ নেই জানিয়ে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, তারা রাজি হলে কাটাবাড়ি ইউনিয়নের ১৪.২৬ একর জায়গায় আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসন করা যাবে। মহল বিশেষের উস্কানিতে আদিবাসীরা জমি দখল করেছিল।রোববার জেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি এই কথা জানান। এর আগে রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে সাঁওতালদের সঙ্গে চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ও স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে সংঘঠিত ঘটনাবলীর বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, আদিবাসীদের উচ্ছেদের জন্য কোনো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি। সেদিন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সরকারি জানমাল সম্পত্তি ও অস্ত্র রক্ষার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। এছাড়া ইতিপূর্বে দায়ের করা অস্ত্র লুটের মামলাসহ অন্য মামলার আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। চিনিকলের জমি দখল করে আদিবাসীরা এলাকায় সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে রেখেছিল। তাই আশপাশের লোকজন তাদের উপর ক্ষুব্ধ ছিল। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, বর্তমানে যারা খোলা আকাশের নিচে আছে বলে দাবি করে তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব বাড়ি-ঘর আছে। তবে আমরা ৩১জন ভূমিহীন আদিবাসীর তালিকা তৈরি করেছি। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সংবাদ মাধ্যমে পরিবেশিত খবরগুলোতে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিষয় প্রকাশিত না হওয়ায় পুলিশ বাহিনীর প্রতি মানুষের নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার দিন কোনো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি। বরং সরকারি সম্পদ ও জানমাল রক্ষা এবং মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। আর আদিবাসীদের দাবি অনুযায়ী চিনিকলের জমি তাদের দেয়ার বা সেখানে পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই।এসময় পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম বলেন, গত ৬ নভেম্বর ইক্ষু খামারে সাঁওতালদের সঙ্গে মিল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে সংঘঠিত ঘটনাবলীর বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য প্রকাশিত হচ্ছে। এতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সর্বসাধারণের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, গত ১২ জুলাই চিনিকলের শ্রমিকরা ইক্ষু চাষের জন্য গেলে আদিবাসীরা তাদের উপর হামলা চালায়। পরে গোবিন্দগঞ্জ ইউএনওসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসময় এক এএসআই ও কনস্টেবলকে সাঁওতালরা তীরবিদ্ধ করে। এরপর ১৪ জুলাই সেখানে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়। এতে আদিবাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৭ আগস্ট তীর ধনুক নিয়ে ক্যাম্পে হামলা করে পুলিশকে আহত করে একটি শটগান লুট করে নিয়ে যায়। পরে এই ঘটনায় দুইটি মামলা দায়ের করা হয়।এরপর গত ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ বীজ সংগ্রহের জন্য আখ কাটতে গেলে আদিবাসীরা তাদের আক্রমণ করে বীজ ছিনিয়ে নেয়। পরে ইউএনওসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে আদিবাসীরা তাদের উপর আক্রমণ চালায় এতে ৮ পুলিশ সদস্য তীরবিদ্ধ হয়। তখন সরকারি সম্পত্তি ও জানমাল নিরাপত্তার স্বার্থে থানা সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে উচ্ছৃঙ্খল আদিবাসীদের ছত্রভঙ করার জন্য প্রথমে গ্যাসগান পরে শটগানের গুলি ছোড়া হয়। এতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে রাইফেলের ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। জিল্লুর রহমান পলাশ/এআরএ/পিআর