বৃষ্টির পরেই শীতের আগমন ঘটেছে। গাছিরাও ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন গাছ তোলা নিয়ে। কোথাও গাছ তোলা, আবার কোথাও গাছ চাঁচ দেওয়া, ফুটকাটা, নলিপোতা ও ভাড় সংগ্রহ। এভাবেই ব্যস্ত সময় পার করছেন ঝিনাইদহের গাছিরা। সারা বছর অযত্নে আর অবহেলায় পড়ে থাকলেও শীত আসলেই শুরু হয় খেজুর গাছের আলাদা যত্ন। স্থানীয়রা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিশেষ করে মেহেরপুর এলাকা থেকে গাছিরা এসে গাছ তোলেন। আবার অনেক সময় গৃহস্থের সঙ্গে চুক্তি করে গাছ লিজ নিয়ে খেজুরের গুড় বানান ব্যবসায়ীরা।ঝিনাইদহ সদর উপজেলা ছাড়াও কালিগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর এলাকার কিছু এলাকায় খেজুরের গুড় উৎপাদন করা হয়্।খেজুরের গুড় বিক্রি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ায় অনেক কৃষক এখন বাণিজ্যিকভাবে খেজুরের বাগান করছেন। যদি কৃষি সম্পসারণ অধিদফতর অন্যান্য ফসলের মতো খেজুর গাছের পরিচর্যা এবং এর সুফল সম্পর্কে তুরে ধরে তাহলে ধান পাটের মতো খেজুর গাছও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।জানা যায়, নভেম্বর এর শুরু থেকে ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত এ ৪ মাস খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা যায়। এসময় খেজুর গাছের রস থেকে গুড় সংগ্রহ করা হয়। কনকনে শীতের সকালে বাড়ির আঙিনায় রোদে বসে খেজুরের রসের মধ্যে মুড়ি দিয়ে খাওয়াটা গ্রাম বাংলার একটা ঐতিহ্য।ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাটগোপালপুর এলাকার গাছি আব্দুল বারিক জানান, প্রতি মৌসুমে তিনি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করেন। তার তৈরি গুড় এলাকায় বেশ খ্যাতি অর্জন করেছে। এখন তার ব্যস্ততা বেড়েছে।ঝিনাইদহ জেলার মাটি এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ জেলাতে প্রচুর পরিমাণে খেজুর চাষের আপার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শাহ মোহাম্মদ আকরামুল হক।আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/এমএস