দিনাজপুরে হালকা শীত পড়তে শুরু করেছে। এরইমধ্যে শুরু হয়েছে শীতের কাপড় বেচা-কেনা। দিনে রোদ থাকলেও সন্ধ্যার পর শীত অনুভব করা যাচ্ছে। ভোরের আবহাওয়াও বেশ ঠাণ্ডা। তবে শীত মোকাবেলায় চলছে আগাম প্রস্তুতি।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর থেকে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ২১ হাজার ৬৭০ পিস শীতবস্ত্র বরাদ্দ পেয়েছে দিনাজপুর অফিস।দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস মনে করছে এবার শীতের তীব্রতা গত বছরের তুলনায় বেশি হতে পারে। তবে এখন তা পুরোপুরি বলা যাবে না।হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দিনাজপুর জেলায় শীত অনুভূত হতে শুরু করেছে। কাপড় ব্যবসায়ীরা শীতের কাপড় বিক্রি শুরু করেছেন। শহরের বিভিন্ন ফুটপাতে সন্ধ্যার পর হকাররা শীতের কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসছেন। বেচা কেনাও হচ্ছে। সন্ধ্যার পর মানুষ হালকা শীতের কাপড় পরে বাইরে বের হচ্ছেন। রাত ৯টার মধ্যে শহর প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।দিনাজপুর হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা শীতের জন্য কাপড় ও পুরাতন কাপড়ের গাড আনতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে তারা বেচা-কেনা শুরু করেছেন। ক্রেতারও আসছে হকার্স মার্কেটে।তবে আগাম শীতবস্ত্র বিতরণের কোনো আলামত এখন পাওয়া যাচ্ছে না। বিগত বছরগুলোতে আগাম শীতবস্ত্র বিতরণের প্রবণতা দেখা যেত। প্রচণ্ড শীতের সময় তড়িঘড়ি করে শীত বস্ত্র বিতরণ করতে গিয়ে অনেক সময় সঠিকভাবে তা বিতরণ হয় না। আবার দাম বেশি হওয়ায় মানসম্মত শীতবস্ত্র বিতরণ হয় না।দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদফতরের সিনিয়র অফিস সহকারী মো. তজিবর রহমান জানান,দিনাজপুরে তাপমাত্রা ২১ থেকে ২২ ডিগ্রির মধ্যে উঠা নামা করছে। তবে এবার দিনাজপুরে গত বারের চেয়ে শীত বেশি পড়তে পারে। বৃষ্টি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।সদর উপজেলার খোদমাধপুর মিস্ত্রী পাড়ার মঞ্জুয়ারা (৬০) , কাশিমপুর গ্রামের নুর নাহার বেওয়া (৬০) ও আবুল হোসেন (৭০) জানান, গত বছর তারা শীতবস্ত্র হিসেবে চাদর অথবা কম্বল পেয়েছেন। কিন্তুশীত বস্ত্রগুলো এতটাই নিম্নমানের যে গত বছরেই রং উঠে ও ছিড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর দিনাজপুর জেলার ১৩ টি উপজেলায় যে ২১ হাজার ৬৭০ পিস শীতবস্ত্র বরাদ্দ দিয়েছে তা ইতোমধ্যে উপজেলাগুলোতে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। এবারের বরাদ্দের মধ্যে সদর উপজেলায় দুই হাজার ৫০৭ পিস, বিরল উপজেলায় এক হাজার ৮৮৪ পিস, বোচাগঞ্জ উপজেলায় এক হাজার ২৩৫ পিস, কাহারোল উপজেলায় এক হাজার ৩৫০ পিস, বীরগঞ্জ উপজেলায় দুই হাজার ৫০৩ পিস, খানসামা উপজেলায় এক হাজার ৫৪২ পিস, চিরিরবন্দর উপজেলায় দুই হাজার ৯৫ পিস,পার্বতীপুর উপজেলায় দু্ই হাজার ৬৪২ পিস,ফুলবাড়ী উপজেলায় এক হাজার ২০২ পিস,বিরামপুর উপজেলায় এক হাজার ২৩৫ পিস, নবাবগঞ্জ উপজেলায় এক হাজার ৬৩৭ পিস, হাকিমপুর উপজেলায় ৮০৮ পিস ও ঘোড়াঘাট উপজেলায় এক হাজার ৩০ পিস শীতবস্ত্র বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।এএইচএম/আরএআর/আরআইপি