নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চান্দাই গ্রামে কথিত প্রেমিককে পাইয়ে দেয়ার প্রলোভনে দুই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ এবং ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় কবিরাজসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় মামলাটি করেন। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন কবিরাজ আল আমিন ওরফে আকিল, আকিলের সহযোগী তাছলিমা খাতুন এবং ভিডিওগ্রাফার রঞ্জু। অভিযুক্তরা সবাই বড়াইগ্রাম উপজেলার চান্দাই গ্রামের বাসিন্দা। মামলার বিবরণে বলা হয়, প্রায় এক বছর আগে চান্দাই উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৫) কবিরাজির মাধ্যমে তার সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে মিলিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেয় আকিল আহম্মেদ। পরে তার কথামত রাত ১১টার দিকে মেয়েটি তার বাড়িতে আসলে কবিরাজির ভান করে এক পর্যায়ে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় স্থানীয় ডিস লাইন ব্যবসায়ী রঞ্জু ও আকলিমার সহায়তায় ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়। পরে এ ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে গত এক বছর যাবৎ নিয়মিত মেয়েটিকে ধর্ষণ করে আসছিল সে। কিছুদিন আগে বিকেল বেলা অপর একটি মেয়ে (১৩) তাদেরকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। পরের দিন কৌশলে মেয়েটিকে আকিল আহম্মেদ তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাকেও ধর্ষণ করে ভিডিও করে রাখে। সম্প্রতি মেয়ে দুটি তার আহ্বানে সাড়া না দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে সে মেয়ে দুটিকে ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে দেয়। চান্দাই উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইয়াহিয়া উল আলম বলেন, আমরা জেনেছি শুধু দুজন ছাত্রী নয় আরও কিছু মেয়ে এই নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের শিকার এক স্কুলছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। তাদের চেষ্টায়ই ধর্ষকরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহরিয়ার খান বলেন, দুই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও ইন্টারনেটে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। রেজাউল করিম রেজা/আরএআর