দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ কলাবাড়ী এলাকা থেকে নাটোরের তিন যুবলীগ কর্মীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে উপজেলার কলাবাড়ী এলাকার একটি আমবাগান থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন- নাটোর পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও শহরের কানাইখালী এলাকার সোনা মিয়ার ছেলে রেদওয়ান সাব্বির (২৫), একই এলাকার হাফেজ লুৎফর রহমানের ছেলে আব্দুল্লাহ (২৫) ও শহরের কালুর মোড় এলাকার কালু মিয়ার ছেলে সোহেল রানা (২৬)। নিহতদের মাথায় গুলিবিদ্ধের চিহ্ন রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নাটোর থানায় একাধিক মামলা ও নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান চৌধুরী জানান, নিহত তিন যুবকের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তাদের বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তিনি জানান, নিহতদের মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে উদ্ধার করে ঘোড়াঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের লাশ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, ওই তিনজনকে কালো মাইক্রোবাসযোগে কে বা কারা গত শনিবার রাতে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরদিন এ ঘটনায় নাটোর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে ঘোড়াঘাট এলাকায় তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।পুলিশের ধারণা, কোনো শত্রুতার জের ধরে তাদের হত্যা করা হয়েছে। সন্ত্রাসী বলে তাদের ক্রসফায়ারে দেয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, যদি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ক্রসফায়ারে দিত তাহলে তারা জানতেন। এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই বলে জানান পুলিশ সুপার। তবে নিহত তিনজনই ওই এলাকার সাব্বির বাহিনীর সদস্য। এদের মধ্যে সাব্বিরের বিরুদ্ধে ১২টি, সোহেলের বিরুদ্ধে তিনটি ও আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।অপরদিকে নাটোর সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে জানান, গত শনিবার রাতে সদর উপজেলার তকিয়া বাজার এলাকায় কাজ শেষ যুবলীগ নেতা সাব্বির তার দুই বন্ধু আব্দুল্লাহ ও সোহেল একটি চায়ের দোকানে চা পান করছিল। রাত ১১টার দিকে সেখানে দুটি হাইস গাড়ি যোগে ১৫/১৬ জন দুষ্কৃতকারী তাদের মারপিট করে গাড়িতে তুলে নিয়ে রাজশাহীর দিকে চলে যায়। এরপর তাদের খোঁজ না পেয়ে সাব্বিরের মা রুখসানা বেগম রোববার সকালে নাটোর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এছাড়া এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে নাটোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছিল যুবলীগ। কিন্তু তার আগেই সোমবার সকালে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে তিন যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধারের সংবাদ প্রচার হয়। তা দেখে পরিবারের লোকজন সদর থানার মাধ্যমে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানায় খোঁজ নিয়ে ওই মরদেহের ব্যাপারে নিশ্চিত হন। এদিকে নিহতের এ ঘটনার পর সোমবার দুপুরে নাটোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে পৌর যুবলীগ। এতে যুবলীগ নেতারা লিখিত বক্তব্যে বলেন, যারা যুবলীগের তিন কর্মীকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বিপ্লব, সদর যুবলীগ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ডাবলু, পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক সাঈম হোসেন উজ্জ্বল ও যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুল ইসলাম বুলেট। ওসি মিজানুর রহমান বলেন, নিহত সাব্বিরের বিরুদ্ধে নাটোর সদর থানায় হত্যাসহ ১২টি, সোহেলের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা আছে। তবে নিহত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই।এছাড়া নিখোঁজের পর সাব্বিরের মা বাদী হয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। এমদাদুল হক মিলন/রেজাউল করিম রেজা/আরএআর/এফএ/আরআইপি