রাজাকার ইদ্রিস মৌলভীর ফাঁসির রায়ে খুশি হয়ে বীরাঙ্গনাদের ফুল দিয়ে সম্মাননা ও সুবিধাবঞ্চিত বীরাঙ্গনাদের পাশে থাকার প্রতিজ্ঞা জ্ঞাপন করেছেন শরীয়তপুরের মুক্তিযোদ্ধারা। মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে মনোহর বাজার মধ্যপাড়া মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভের সামনে এ সম্মাননার আয়োজন করা হয়। মামলার বাদী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ তালুকদার বলেন, একাত্তরের চিহ্নিত রাজাকার যুদ্ধাপরাধী মোৗলভী ইদ্রিস আলীর ফাঁসির রায় ঘোষিত হওয়ায় আমি ট্রাইব্যুনাল ও বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি বলেন, রাজাকার ইদ্রিস মৌলভীর ফাঁসির রায়ে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা জেলার সুবিধাবঞ্চিত দুই বীরাঙ্গনাকে ফুল দিয়ে সম্মাননা জানিয়েছি। সুখে দুখে তাদের পাশে সব সময় থাকার প্রতিজ্ঞা করেছি।এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. আলিম উদ্দিন শেখ, আবুল হোসেন খান, আব্দুল জলিল হাওলাদার, মুক্তিযোদ্ধা কমরেড নুরুল ইসলাম সরদার, আবুল কাশেম মিয়া, শওকত আলী খান, আদেল উদ্দিন খন্দকার, সামসুল হক চৌধুরী, আবুল কাশেম মিয়া প্রমুখ।উল্লেখ্য, সোলায়মান মোল্লা ১৯৭১ সালে পাকিস্তান দখলদার বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য শান্তি কমিটি এবং সশস্ত্র রাজাকার বাহিনী গঠন করেছেন। এরপর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় শরীয়তপুরে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ সব ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ করে।ইদ্রিস আলী সরদার ওরফে গাজী ইদ্রিস ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিয়ে মানবতাবিরোধী একই রকম অপরাধ করে। তিনি ১৯৬৯ সালে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা ছিলেন। ২০১০ সালের ২৬ মে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইদ্রিস আলীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে শরীয়তপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেন শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সামাদ তালুকদার। এরপর মামলাটি ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেয়া হয়।গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পলাতক ইদ্রিস আলীর ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেন। মো. ছগির হোসেন/এএম/এমএস