দেশজুড়ে

কাজ মিললেও বেতন মিলছে না আউটসোর্সিং কর্মীদের

সিরাজগঞ্জে সদর হাসপাতালে কর্মরত ২৫জন আউটসোর্সিং কর্মী চার মাস ধরে কাজ করলেও বেতন মিলেছে মাত্র এক মাসের। আর নির্ধারিত বেতনের চেয়ে অনেক কম টাকা দেয়ার অভিযোগও রয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এসব কর্মীরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, এদের বেতন পরিশোধ করার দায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের। আর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, বেতন দিতে একটু বিলম্ব হচ্ছে। শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান করা হবে। গত চার মাস আগে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের কাজ পায় গ্রেনেডিয়ার সিকিউরিটি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। ১০ জন নিরাপত্তা কর্মী আর ১৫ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীও নিয়োগ দেয় তারা। কিন্তু গত চার মাস নিয়মিত কাজ করলেও শুধুমাত্র এক মাসের বেতন পরিশোধ করে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ সংস্থা। তবে সে বেতনও ছিল চুক্তি করা বেতনের চেয়ে অনেক কম। অভিযোগ রয়েছে- নিয়োগের সময় অধিকাংশের কাছ থেকে জামানতের কথা বলে নেয়া হয়েছে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। কর্মীদের বেতন ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধের কথা থাকলেও ভয় দেখিয়ে ব্যাংকের চেক সই করিয়ে নিজের কাছে রেখেছেন নিয়োগকারী কর্তা। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের জন্য তিনটি কোম্পানি টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে। এতে ১টি প্রতিষ্ঠান ১০% হারে অপর একটি প্রতিষ্ঠান ৭.৫% হারে এবং গ্রেনেডিয়ার সিকিউরিটি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড ০.০৭% হারে টেন্ডার দাখিল করে। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজ পায় ওই কোম্পানি। এখানে উল্লেখ্য যে, টেন্ডারে উল্লেখিত দরের নিচে কর্মীদের বেতন দেয়ার কোনো নিয়মই নেই ঠিকাদারের। ঠিকাদার শুধুমাত্র প্রদেয় বেতনের কমিশন পাবেন। যা নিয়োগকৃত এই ঠিকাদার মানছেন না।সিকিউরিটি গার্ড লাল মিয়া জানান, ব্যাংকের মাধ্যমে আমাদের বেতন পরিশোধ করার কথা। কিন্তু মালিক পক্ষ ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের সকল চেক সই করে তার নিজের কাছে রেখেছেন। প্রতিবাদ করলেই চাকরি থেকে বাদ দেয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি।গার্ড শাহীন জানান, গত চার মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় দোকান থেকে বাকিতে খেতে হচ্ছে। কিন্তু এখন আর দোকানী মালামাল দিতে চাচ্ছে না। এ অবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। গার্ড ভাষা ও শাহীন জানান, চাকরিতে ঢোকার সময় ১০ হাজার টাকা করে জামানতের কথা বলে নিয়েছে। আবার সরকারি চুক্তিতে আছে আমাদের বেতন ১৪ হাজার ৪৫০টাকা কিন্তু আমাদেরকে দেয় ৮ হাজার টাকা। প্রতিবাদ করলে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দেয়। পরিচ্ছন্নতা কর্মী জয়নব জানান, চেকগুলো প্রকল্প পরিচালকের কাছে তাই তিনি যা চেকে লিখে দেন সেটাই তুলতে হয়। তবে আমাদের পুরো বেতন কখনোই তিনি দেন না। হরিজন নেতা রতন বাশফোর জানান, বুধবার বিকেলে মোদাচ্ছের রহমান পরাগ এসে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। তিনি বলেন, আগামী মাস থেকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রতিমাসে তিনি ৯ হাজার টাকা করে দেবেন। কিন্তু তার এই প্রস্তাব আমরা কেউই মানতে রাজী হইনি। তবে স্থানীয় অনেক মানুষের চাপে আমরা রয়েছি। আমাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টি দেখার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের আর এম ও ডা. আকরামুজ্জামান জানান, এই সকল কর্মীদের বেতন চুক্তি অনুযায়ী ১৪ হাজার ৪৫০ টাকা। যা পরিশোধ করার দায় নিয়োগকারী সংস্থার। পরে তিনি তা বিলের মাধ্যমে উত্তোলন করে নেবেন। তবে বেতন না পাওয়ায় কর্মীরা কাজ বন্ধ করে দিলে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় অসুবিধা সৃষ্টি হবে। ঠিকাদারকে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য হাসপাতালে দেখা করার জন্য বলা হলেও তিনি আসেননি। সিরাজগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ মো. মনজুর রহমান জানান, ঠিকাদার আউট সোর্সিং কর্মী নিয়োগের শুরু থেকেই জটিলতার সৃষ্টি করে চলেছেন। এখন কর্মীদের বেতন নিয়ে যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে, তা ঠিকাদারই করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। গ্রেনেডিয়ার সিকিউরিটি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড প্রকল্প পরিচালক মো. মোদাচ্ছের রহমান পরাগ কয়েক মাস ধরে বেতন না দেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, যে বেতনের দাবি তারা করছেন, সেটা আসলে আউটসোর্সিং কোম্পানির জন্য নির্ধারণ করা। তাদের প্রাপ্য নয়। তাদের সাথে মৌখিক যে চুক্তি করা হয়েছে সে মোতাবেকই তাদের বেতন দেয়া হচ্ছে।ইউসুফ দেওয়ান রাজু/আরএআর/এমএস