আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, সংবিধান এখনো ৭২’র সংবিধানে প্রত্যাবর্তন করা হয়নি। এই সংবিধান সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা এবং জঙ্গিবাদের পাহারাদার।শনিবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।রানা দাশগুপ্ত বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর পরেও এই সংবিধানে বাংলাদেশ আছে আবার পাকিস্তানও আছে। এই সংবিধানে যেমন ধর্মনিরপেক্ষতা আছে তেমনি ধর্মতন্ত্রও আছে। পাশাপাশি সংবিধানে বঙ্গবন্ধু আছেন, জিয়া ও এরশাদের প্রেতাত্মাও আছে। ৭২’র সংবিধানে ফিরিয়ে নিয়ে যাবার জন্য আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ লড়াই করতে না পারি তাহলে আমরা সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে পারলেও রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করতে পারবো না।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগ এতো ছোট দল হয়ে যায়নি যে দল বড় করার জন্য যুদ্ধাপরাধী বা তাদের সন্তানদের দলে ঢুকাতে হবে। দলে আগাছা ঢুকেছে।তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনৈতিক বিজয়ের অর্জনের জন্য লড়াই শুরু করেছেন। সেই লড়াইয়ে তিনি অনেক বেশি আন্তরিক ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি যদি আন্তরিক না হতেন তাহলে আমরা বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার দেখতাম না, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া দেখতে পারতাম না।এসময় সরকারের উন্নয়ন প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরো বলেন, দেশে উন্নয়নের ব্রীজ হচ্ছে-কালভার্ট হচ্ছে। কিন্তু মানুষের মনোজগতের উন্নয়ন যদি না করা যায়, মানুষের মানিবক চেতনাই যদি উজ্জীবিত করা না যায় তাহলে কি সেই উন্নয়ন টেকসই হবে? আমরা উন্নয়নের স্লোগান দিতে পারবো কিন্তু সেই উন্নয়ন টেকসই হবে না।জেলা জজ কোর্টের ভারপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. এস এম ইউসূফ ভূইয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সামছুল হক, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক সাংবাদিক আবদুন নূর, বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. তানভীর ভূইয়া প্রমুখ।আজিজুল সঞ্চয়/এআরএ/এএম