দেশজুড়ে

ছাত্রলীগ নেতার মোটরসাইকেল থামানো নিয়ে থানায় ভাঙচুর

হবিগঞ্জে জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের মোটরসাইকেল থামানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সদর মডেল থানা ভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সহকারী পুলিশ সুপারের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। এসব ঘটনায় থানার উপ-পরিদর্শকসহ (এসআই) অন্তত ৮ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৯ রাউন্ড শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ ছোড়ে। সংঘর্ষে আহত এসআই অরূপ কুমার চৌধুরী ও এসআই জাকির হোসেনকে সদর আধুনিক হাসপাতালে এবং অন্য আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।পুলিশ জানায়, অবৈধ ও কাগজপত্রবিহীন যানবাহন আটকের লক্ষ্যে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় নিয়মিত চেকপোস্ট বসানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার শহরের ২নং পুল এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।দুপুরে জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মুকিদুল ইসলাম মুকিতের নেতৃত্বে কয়েকটি মোটরসাইকেল ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় তাদের মোটরসাইকেল পুলিশ থামায়। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা হয়।এ খবর পেয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে থানায় এসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশের দুটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মুকিদুল ইসলাম মুকিত বলেন, রোববার দুপুরে আমি, কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি, পৌর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক একটি অনুষ্ঠান শেষ করে অন্য অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য রওনা হই। ২নং পুল এলাকায় পৌঁছালে চেকপোস্টে পুলিশ আমাদের থামিয়ে প্রথমে কাগজ দেখতে চায়। কাগজ ঠিক থাকায় তারা আমাদের তিনজনকে একটি সাইকেলে যেতে বারণ করে। আমরা তাদের বিনয়ের সঙ্গে বলেছি একটি অনুষ্ঠানে যাব।এ সময় উপস্থিত কয়েকজন এসেও অনুরোধ করেন ছেড়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু তারা আমাদের তিনজনকে একসঙ্গে যেতে দেবে না বলে দেয়। খবর পেয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা থানার সামনের রাস্তা অবরোধ করে। এ সময় এক পুলিশ থানার সামনে থেকে শর্টগান দিয়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরাও থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও একটি গাড়ি ভাঙচুর করে।সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়াছিনুল হক জানান, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের মোটরসাইকেল থামানোকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষিপ্ত হয়ে তারা থানায় এসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশ পাল্টা ৯ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এএম