দেশজুড়ে

হাওর এলাকায় চ্যারিটেবল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে হাওর এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে চ্যারিটেবল হাসপাতাল। যেখানে প্রতিমাসের প্রথম শনিবার গ্রামের দরিদ্র মানুষদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়। সেই সঙ্গে সামর্থ অনুযায়ী ওষুধও দেয়া হয়। এমন উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হন চিকিৎসকও। মাসে একদিন মানবসেবায় আত্মনিয়োগের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। নিজ খরচে সেখানে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের মাইথলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ধ্রুব দাশ। মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে মহতি এ উদ্যোগ নেন ৩ ভাই। নিজেদের ভিটেতেই এ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন তারা। তাদের এ উদ্যোগে অভিভূত হয়েছেন এলাকাবাসীও।হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সাভার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, আমরা ৩ ভাই নিজেদের কর্মস্থলে অবস্থান করি। বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে কেউ থাকেন না। তাই আমরা পূর্বপুরুষ এবং গ্রামের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে বাড়িটিতে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেই। আমরা চাই গ্রামের মানুষ যেন সহজে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পান। অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা যেন দেয়া সম্ভব হয়।সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের মাইথলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ধ্রুব দাশ বলেন, গ্রামের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া অনেকটাই কষ্টকর। তাদের সামান্য অসুখের জন্যই শহরে যেতে হয়। ভিজিট দিয়ে ডাক্তার দেখাতে হয়। ওষুধ কেনতে হয়। কিন্তু অনেকেরই ডাক্তারের ভিজিট দেয়া বা ওষুধ কেনার সামর্থ নেই। আর আমরাও শহরে যন্ত্রের মতো চলি। টাকার পেছনে দৌড়াই। এমন অবস্থায় আমি দরিদ্র মানুষকে সামান্য সেবা দিয়ে সমাজে কিছু অবদান রাখতে চাই। মানবসেবায় সামান্য অবদান রাখতে পারলেও আমি ধন্য হবো। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বানিয়াচং উপজেলার প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চল কাগাপাশা ইউনিয়নের চান্দপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নজির উদ্দিন চৌধুরী চ্যারিটেবল হাসপাতাল। এ গ্রামেরই বাসিন্দা কাগাপাশা জনতা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মরহুম নজির উদ্দিন চৌধুরীর নামে নিজেদের পৈত্রিক ভিটাতে এটি প্রতিষ্ঠা করেন তার সন্তানরা। এখানে চান্দপুরসহ আশপাশের ৭টি গ্রামের প্রায় ১২ হাজার বাসিন্দাকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এএম/এমএস