দেশজুড়ে

নাভির ভেতরে ধান ঢুকিয়ে মধ্যযুগীয় নির্যাতন

নৌকা চুরির অপবাদ দিয়ে এক জেলের নাভির ভেতরে ধান ঢুকিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে বলে এক ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।  একই সঙ্গে ওই দরিদ্র জেলেকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান। নগদ ৮০ হাজার টাকা এবং ১টি গরু ও ২টি ছাগলসহ চার বিঘে জমি লিখিয়ে নিয়েছেন ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য। এরপর দুদিন ধরে বন্দি রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেছে ইউপি সদস্যের সহযোগীরা।ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের রায়ভোগ গ্রামে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে বরগুনা থানার পুলিশ।প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় অধিবাসী এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সপ্তাহখানেক আগে একই ইউনিয়নের মরখালী গ্রামের স্থানীয় অধিবাসী সজীব মাতব্বরের ইঞ্জিনচালিত নৌকা চুরি হয়।গত শনিবার সদর উপজেলার পদ্মা গ্রামের বিষখালী নদীতে ওই নৌকাসহ জয়নালকে আটক করে স্থানীয়রা। ওদিন রাতেই চুরি যাওয়া নৌকাসহ রায়ভোগ গ্রামের সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য জসীম মাতব্বরের বাড়ি নিয়ে যায় স্থানীয়রা। ইউপি সদস্য জসীম মাতব্বরের বাড়ি আটকে রেখে শনিবার রাত থেকে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত জয়নালকে মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর নির্যাতন চালায় ট্রলার মালিক সজিব মাতব্বর তার চাচাত ভাই রাসেল মাতব্বর ও তাদের সহযোগীরা।এ সময় তার নাভির ভেতরে ধান ঢুকিয়ে দলবেঁধে পালাক্রমে একজনের পর একজন তাদের পায়ের গোড়ালি দিয়ে জেলের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়। ইউপি সদস্য জসীম মাতব্বরের সহযোগী সেলিম বিশ্বাস, শাহ আলম বিশ্বাস, ফরিদ মিয়া এবং মো. ছগির হোসেন এ নির্যাতন চালায়। পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে জয়নাল। দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে এসে জয়নালকে চুরির অভিযোগে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেন ঢলুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল টিটু। বাড়ি ফিরে জয়নালের হাত পা ফুলে ওঠে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর পেয়ে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন ইউপি সদস্য জসীম মাতব্বর। সেখানে তিনি জয়নালকে আটকে রাখেন যাতে থানায় গিয়ে এ ঘটনায় কোন অভিযোগ না করতে পারেন জয়নাল।খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ইউপি সদস্য জসীম মাতব্বরের বাড়ি থেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দরিদ্র জেলে জয়নালকে উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য জসীম মুতুব্বর বলেন, চুরি করার পরে লোক লজ্জার ভয়ে সে বাড়ি যেতে পারছিল না। তাই সে আমার বাড়িতে ছিল।এ বিষয়ে বরগুনা থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হাসান জানান, চুরির অভিযোগে নির্যাতনের তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জয়নালকে উদ্ধার করে বরগুনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।এ বিষয়ে ঢলুয়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল টিটু বলেন, হঠাৎ করে তার  ইউনিয়নে নৌকা চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পায়। এরপর স্থানীয়রা চুরি যাওয়া একটি নৌকাসহ জয়নালকে আটক করে মারধর করে। বিষয়টি যাতে থানা-পুলিশ পর্যন্ত না যায়, তাই এটিকে স্থানীয়ভাবে সালিশির মাধ্যমে সমাধান করা হয়।মো. সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এএম/আরআইপি