দেশজুড়ে

গাইবান্ধায় চেম্বার অব কমার্সের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে আহত ৮

গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সভায় দুই গ্রুপের অভ্যান্তরীণ দ্বন্দ্ব ও হাতাহাতির জের ধরে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আটজন আহত হয়েছেন। এসময় শ্যামলী পরিবহনের একটি কাউন্টার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা শহরের হকার্স মার্কেটে এ সংঘর্ষ ও এক নম্বর ট্রাফিক মোড়ে শ্যামলী কাউন্টার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে শহরের থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনার পর শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, শ্যামলী কাউন্টার ভাঙচুর করে মোক্তাদুর রহমান মিটুর উপর হামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেছে শ্রমিকরা। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী সাধারণ। এ সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল। গুরুত্বর আহতদের মধ্যে চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মোক্তাদুর রহমান মিটু, শ্যামলী কাউন্টারের ম্যানেজার সুমন মিয়া, রায়হান মিয়া ও শাহীনের নাম জানা গেছে। তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে রায়হান ও সুমনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকালে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কার্যালয়ে সাধারণ সভা চলাকালে চেম্বারের সাধারণ সদস্যদের প্রবেশে বাধা দেয় চেম্বারের সভাপতি শাহাজাদা আনোয়ারুল কাদির। এছাড়া সভা চলাকালে সাধারণ সদস্যরা খোলামেলা কথা বলতে চাইলে তাদের বাধা দেয়া হয়। এতে আনোয়ারুল কাদিরের ভূমিকা নিয়ে সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে দুপুরের পর চেম্বারের সভাপতি শাহাজাদা আনোয়ারুল কাদির ও পরিচালক শহিদুল ইসলাম শান্ত বেশ কিছু ভাড়াটিয়া লোকজন পাঠায় চেম্বারের পরিচালক খান মো. জসিমের বাসায়। এ সময় জসিমের পাড়ার লোকজন উত্তেজিত হয়ে উঠলে তারা চলে আসে। এ ঘটনার পর বিকেলে জসিমের লোকজন চেম্বারের অপর পরিচালক মোক্তাদুর রহমান মিটুর শ্যামলী কাউন্টার ভাঙচুর করে। এরপর তারা হকার্স মার্কেটে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য পিয়ারুল ইসলামের অফিসে হামলা করতে গেলে পিয়ারুলের লোকজন ও মিন্টুর পক্ষের শ্রমিকের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের আট জন আহত হয়। গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তুলে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের মোরছালিন পারভেজ বলেন, সাধারণ সভায় সদস্যরা প্রাণ খুলে কথা বলবে এটাই নিয়ম। কিন্তু সাধারণ সদস্যদের কথা বলতে না দেয়া ও পরিচালক জসিমের বাসায় ভাড়াটিয়া লোকজন পাঠানোয় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জন্য চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শাহাজাদা আনোয়ারুল কাদির ও পরিচালক শহিদুল ইসলাম শান্তকে দায়ী করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শাহাজাদা আনোয়ারুল কাদির ও পরিচালক শহিদুল ইসলাম শান্তর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জিল্লুর রহমান পলাশ/আরএআর/এমএস