দেশজুড়ে

আ.লীগ কর্মীদের নেয়া তদবিরের টাকা ফেরত দিলেন এমপি

গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ এনে দেয়ার কথা বলে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী দুই লাখ টাকা আদায় করেন। সেই টাকা উদ্ধার করে গ্রাহকদের ফেরত দিয়েছেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুল কুদ্দুস। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক অনুষ্ঠানে প্রত্যেক গ্রাহককে তাদের টাকা ফেরত দেন তিনি। এরপর বিদ্যুৎ-সংযোগের উদ্বোধন করেন। এতে ১০৫টি বাড়িতে জ্বলে ওঠে বৈদ্যুতিক বাতি।নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (বনপাড়া) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে বড়াইগ্রাম উপজেলার মৃধা কচুয়াসহ আশপাশের গ্রামের ১০৫টি বাড়িতে নতুন বিদ্যুৎ-সংযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের স্থানীয় কিছু কর্মী গ্রাহকদের কাছ থেকে তদবির করার অজুহাতে প্রায় দুই লাখ টাকা আদায় করেন। ঘটনাটি সাংসদের কানেও যায়। এ অবস্থায় তিনি গ্রাহকদের চাঁদা দেয়ার জন্য বকাবকি করেন এবং ওই টাকা আদায় করে না দেয়া পর্যন্ত তিনি গ্রামে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেবেন না বলে জানান। একই সঙ্গে টাকা আদায়কারীদেরও তিনি টাকা ফেরত দেয়ার জন্য চাপ দেন। অবশেষে সোমবার তারা টাকা ফেরত দিতে সম্মত হয়। এ কারণে ওই দিনই তিনি অনুষ্ঠান করে টাকা ফেরত দেন এবং বিদ্যুৎ-সংযোগের উদ্বোধন করেন। গ্রাহকরা জানান, গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ এনে দেয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা করে নিয়েছিল স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ কর্মী। এসব টাকা উদ্ধার করে এমপি তাদের ফেরত দেয়ায় তারা খুশি।গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও  উপস্থিত ছিলেন নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক নিতাই কুমার সরকারসহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিভিন্ন কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা।সংসদ সদস্য আবদুল কুদ্দুস বলেন, বর্তমান সরকার বিনা খরচে গ্রামের মানুষকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এ ক্ষেত্রে কিছু লোক তদবিরের নামে টাকা উঠিয়েছিল। আমি বিষয়টি জানতে পেরে ভীষণ রেগে ছিলাম এবং টাকা ফেরত না দিলে বিদ্যুৎ-সংযোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। অবশেষে টাকা ফেরত দিতে পেরে ভালো লাগছে।আরএআর/এমএস