দেশজুড়ে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত দিবস আজ

১৫ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর, গোলাম নবী সাটুসহ নাম না অসংখ্য শহীদ প্রাণপণ যুদ্ধ করে ও  বুকের রক্ত দিয়ে পাক- হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসরদের কবল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে মুক্ত করেন।  তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মেশবাহুল হক বাচ্চু, ডা. মইন উদ্দিন আহমেদ মন্টু, হাজী রইশুদ্দিন মিয়া, খালেদ আলী মিয়া ও অ্যাডভোকেট হামিদুর রহমান হেনাসহ বেশ কিছু উদীয়মান তরুণ এলাকার মানুষকে স্বাধীনতায় উজ্জীবিত করেন এবং শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ৭নং সেক্টরের অধীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমায় ছিল ২টি সাব সেক্টর। একটি মোহদিপুর সাব সেক্টর অন্যটি দলদলী সাব সেক্টর। মোহদিপুর সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর এবং দলদলী সাব সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন লে. রফিক। মুক্তিযুদ্ধ চলার এক পর্যায়ে ৭ ডিসেম্বর লে. রফিকের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা মকরমপুর ও আলী নগর পাক ঘাটিতে অতর্কিত আক্রমণ চালালে পাঁচ পাক সেনা নিহত ও অন্যরা মহানন্দা নদী পার হয়ে পালিয়ে যায়। অপরদিকে ১০ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা চর বাগডাঙ্গা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর দখলের জন্য অগ্রসর হয় এবং পাক সেনাদের বাংকার দখল করে নেয়। ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর যুদ্ধের তীব্রতা বেড়ে যায় এবং ১৩ ডিসেম্বর সাঁড়াশি আক্রমণে পাকসেনারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। সেই দিন রাতে হরিপুর ব্রিজের কাছে সংঘটিত যুদ্ধে শহীদ হন ইপিআর নায়েক নবির উদ্দীনসহ ৯জন গ্রামবাসী।  ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর শিবগঞ্জ ডাক বাংলোয় যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ, কর্নেল কাজী নুরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরসহ অন্যান্য সেনা কর্মকর্তারা এক সভায় মিলিত হন। সে সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর দখলের রণনীতি প্রস্তুত করা হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর তার বাহিনী নিয়ে কয়েকটি নৌকায় করে মহানন্দা নদী পার হয়ে শহরের রেহাইচরে অবস্থান নেন। বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর  ক্যাপ্টেন মহীউদ্দীন জাহাঙ্গীর মুক্তিযুদ্ধে ক্রমাগত সফলতায়  মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন মাতৃভূমিকে মুক্ত করতে। তিনি ছিলেন ৭নং সেক্টরের মোহদীপুর সাব সেক্টর কমান্ডার। ওই সময় ৭ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন লে. কর্নেল কাজী নুরুজ্জামান।মহানন্দা নদীর দক্ষিণ পাশে বর্তমান সেতুর প্রান্ত সীমায় ছিল পাকিস্তান সেনাদের ঘাটি। সেখানে সন্মুখযুদ্ধে ১৪ ডিসেম্বর মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্যাপ্টেন মহীউদ্দীন জাহাঙ্গীর শহীদ হন। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর সোনামসজিদ চত্বরে  মুক্তিযুদ্ধের আরেক বীরযোদ্ধা শহীদ মেজর নাজমুল হকের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয় । ১৫ই ডিসেম্বর ভোরে মুক্তিযোদ্ধাদের সাঁড়াশি আক্রমণে রাজাকার আলবদর বাহিনী পিছু হটলে ডা. আ.আ.ম মেসবাহুল  হক, ডা. মইনউদ্দীন আহম্মেদ মন্টু, মেজর গিয়াস, লে. রফিক, লেঃ কাইউম তাদের বাহিনী নিয়ে শহরে প্রবেশ করেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ শত্রুমুক্ত হয়। ওইদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কলেজ মাঠে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধারা চাঁপাইনবাবগঞ্জকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করেন।মোহা. আব্দুল্লাহ/আরএআর/আরআইপি