সারাদেশ যখন স্বাধীনতার আনন্দে ভাসছে রাজবাড়ীতে তখনও চলছে অবাঙালি, বিহারি, পাকবাহিনী ও রাজকারদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমল যুদ্ধ। ফলে ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলেও রাজবাড়ী শত্রমুক্ত হয় দুইদিন পর ১৮ ডিসেম্বর।রাজবাড়ী মূলত রেলওয়ে শহর হিসেবে পরিচিত। রেলের সুবাদে এখানে ১৫ থেকে ২০ হাজার অবাঙালি বিহারিদের বসবাস ছিল। পাকিস্তান আমলে এদের প্রচণ্ড প্রভাব ছিল এই এলাকাতে। পুরো রেলটাই ছিল তখন তাদের দখলে। পাক বাহিনী রাজবাড়ীতে প্রবেশের পর বিহারিরা তাদের সঙ্গে যোগসাজসে নির্বিচারে ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালাতে থাকে। রাজবাড়ী জেলায় ৩শ ৭৯ মুক্তিযোদ্ধা বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। রাজবাড়ীতে বিভিন্ন স্থানে ৮টি গ্রুপ যুদ্ধ করতে থাকে। পরে পাংশা ও যশোর থেকে আরোও কয়েকটি গ্রুপ এসে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে রাজবাড়ীকে শত্রুমুক্ত করে।২১ এপ্রিল ১৯৭১, বুধবার রাত ৩টার দিকে আরিচা থেকে বেলুচ রেজিমেন্টের মেজর চিমারের নেতৃত্বে ‘রণবহর’ নিয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ঝাপিয়ে পড়ে পাকবাহিনী। সেই থেকেই রাজবাড়ীতে চলতে থাকে অবাঙালি, বিহারি, পাকবাহিনী ও রাজাকারদের সঙ্গে মুক্তির যুদ্ধ।১৬ই ডিসেম্বর পাকবাহিনীরা আত্মসমর্পণ করলেও রাজবাড়ী শহর তখনো বিহারিদের কবল থেকে মুক্ত হয়নি। তারপর একে একে জেলাসহ অন্যান্য জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মুক্তিবাহিনী এসে সংগঠিত হয়। এ খবরে বিহারিরা রেল লাইনের পাশে অবস্থান নেয় এবং লোকো শেড থেকে ড্রাই-আইস পর্যন্ত মালগাড়ি দিয়ে প্রতিরক্ষা বুহ্য তৈরি করে। মুক্তিযোদ্ধারা বিহারীদের লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করতে থাকলে মালগাড়ির কারণে কোনো ফল হয় না। বিকল্প হিসেবে যশোর থেকে আনা মর্টারের গুলি বর্ষণ শুরু করলে বিহারিদের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ সংগঠিত হয়। এক পর্যায়ে বিহারিদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে রাজবাড়ী স্বাধীন হয়।সদর উপজেলা মুক্তিযোাদ্ধা ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল ও সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, রাজবাড়ী মুক্ত হয় ১৮ ডিসেম্বর। এর কারণ একটাই, এখানে অনেকে বিহারি ও অবাঙালি এবং মিলেশিয়ারা পাকিস্তানিদের পক্ষে ছিল।রুবেলুর রহমান/এফএ/এমএস