নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে আড়াই বছর আগে। আছে উন্নত প্রযুক্তির কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতিও। নেই শুধু প্রয়োজনীয় লোকবল। তাই চালু করা যাচ্ছেনা কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা নিকলীতে নির্মিত প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। অন্যদিকে অনেক দিন পড়ে থাকার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সেখানকার তিন কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। ফলে কাজে আসছেনা জেলার একমাত্র এ আবহাওয়া অফিসটি। ১৩টি উপজেলা নিয়ে হাওর অধ্যুষিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা কিশোরগঞ্জ। কৃষিপ্রধান এ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাকের আগাম তথ্য জানার জন্য একটি উন্নত মানের আবহাওয়া অফিস স্থাপনের। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে নিকলী উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় ২ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। প্রায় দুই একর জমির ওপর সুদৃশ্য দ্বিতল ভবন ছাড়াও নির্মাণ করা হয় কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য আবাসিক ডরমেটরি। কেনা হয় আরও প্রায় তিন কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে আড়াই বছর।নিকলী উপজেলা আবহাওয়া অফিসে গিয়ে দেখা, অফিস ক্যাম্পাসে লোকবল না থাকায় অনেকটা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি। অফিস ক্যাম্পাসে খোলা মাঠে স্থাপিত চার রকমের বিশেষ থার্মোমিটার, ৩ রকমের বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্র, সোলার রেডিয়েশন যন্ত্র, দলীয় বাস্প পরিমাপক যন্ত্র, মাটির নিচের তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র, ব্যারোমিটার, সান রাইজার রেকর্ডারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন এগুলো ব্যবহার না হওয়ায় এর কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে।জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৩০ জুন নির্মাণ কাজ শেষ হলেও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার পরিচালনার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়নি প্রয়োজনীয় লোকবল। ৮টি পদের ডেপুটেশনে নিয়োগ দেয়া হয়েছে একজন পর্যবেক্ষকসহ মাত্র ৩ জন। ৩টি স্ট্রিভেনশন স্ক্রিন বক্স ,তিনটি বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্র, সোলার রেডিওশন যন্ত্র, বড় আকারের কয়েকটি থার্মোমিটার, অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশনসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি। নিকলী প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক ও ভরাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার ফারুক জানান, লোকবল না থাকায় অফিসের কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছেনা। যন্ত্রপাতি বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, ব্যবহার না হওয়ায় এসব যন্ত্রের জীবনকাল বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস চালু করতে লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান এ আবহাওয়া কর্মকর্তা। নিকলীর আবহাওয়া অফিসটি চালু হলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছাড়াও পাওয়া যাবে কৃষি আবহাওয়ার খবরা খবর। তাই দ্রুত লোকবল নিয়োগ দিয়ে পর্যবেক্ষণাগারটি অবিলম্বে চালু করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।এমএএস/পিআর