জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব ও অধিক জনসংখ্যার চাপে দিন দিন কমছে আবাদযোগ্য কৃষি জমির পরিমান। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগেও হুমকির মুখে পড়ছে উপকূলীয় এলাকার কৃষি। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইড্রোপনিক পদ্বতিতে আবাদ বাড়াতে পারলে এ হুমকি মোকাবেলা করা সম্ভব। তবে সরকারিভাবে ব্যাপক প্রচার প্রচারণারও পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, জলাবদ্ধতাসহ বিরূপ পরিবেশে ক্ষতির মুখে পড়ছে উপকূলীয় এলাকার কৃষকরা। এ ছাড়া বাড়তি জনসংখ্যার চাপ সামাল দিতে দিন দিন কমছে আবাদযোগ্য কৃষি জমির পরিমাণ। এ কারণে আবাদ অযোগ্য পদ্ধিতিতে জমি বা অব্যবহৃত স্থান বিশেষ করে বিল্ডিংয়ের ছাদ, ব্যালকনিসহ বাড়ির আশপাশ ও ফাকা স্থানকে চাষের আওতায় আনতে উদ্ভাবন করা হয়েছে হাইড্রোপনিক পদ্বতি অথবা মাটিবিহীন চাষাবাদ।দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের পাশে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউট পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যান তত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকার সাধারণ মানুষ বাগান দেখছেন। কেন্দ্রের এক কোনে এবছর পরীক্ষামূলকভাবে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে তরমুজের আবাদ করে কেন্দ্রের কৃষি বিজ্ঞানীরা। এ সময় কথা হয় কৃষক শাহিন ফকিরের সঙ্গে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে বাড়ির আঙিনায় কীভাবে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে বাগান করবো, তা দেখছি। এখানকার কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ সকল ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
কেন্দ্রের ল্যাব সহকারী মো. বেল্লাল জানায়, অল্প খরচে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে সবজি, ফল ও ফুল চাষ করা সম্ভব। এই চাষে শুধুমাত্র পানিতে গাছের প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ করা হয়। ফলে মাটিবাহিত বিভিন্ন রোগ জীবাণুর অক্রমণ হয় না। ফলে কীটনাশক ও সারের ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না।পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যান তত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার বলেন, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সিজনাল ফসলের পাশাপশি অসময়ের ফল, ফুল ও সবজি উৎপাদন করে ভালো দামে বাজারে বিক্রি করা সম্ভব। হাইড্রোপনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ইতোমধ্যে লেটুস, বাঁধাকপি, টমেটো, ক্যাপসিকাম, করলা, ফুলকপি, তরমুজ, বেগুন, স্ট্রবেরিসহ অনেক জনপ্রিয় সবজি ও ফল ফুল উৎপাদনে সফলতা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে কৃষি ব্যবস্থা যে ক্ষতির মুখে পড়বে তাও মোকাবেলা করতে এ পদ্ধতি অবদান রাখতে পারে।তিনি আরও বলেন, হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য পানির সঙ্গে পটাসিয়াম হাইড্রোজেন ফসফেট, পটাসিয়াম নাইট্রেড, ক্যালসিয়াম নাইট্রেড, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট, ইডিটিএ আয়রণ, ম্যাঙ্গানিজ সালফেট, বরিক এসিড, কপার সালফেট, অ্যামনিয়া মলিবডেট এবং জিংক সালফেট নির্ধারিত পরিমাপে মিশ্রণ করা হয়।মহিব্বুল্লাহ চৌধুরী/এএম