শরীয়তপুরে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। শীত মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষেরা। তাই শীতকে সামনে রেখে জমে উঠেছে শরীয়তপুরের উত্তর বাজার আলোছায়া সিনেমা হলের সন্নিকটে পালং বাজারের ফুটপাতের শীতবস্ত্র দোকানগুলো।এছাড়া প্রতিবছরের মতো এ বছরও জেলার ছয়টি উপজেলার নড়িয়া বটতলা, জাজিরা ব্যাংক মোড়, গোসাইরহাট গরুর হাট সড়কের মোড়, ভেদরগঞ্জ ফলপট্টির মোড়, ডামুড্যা বাজারেও ফুটপাতের শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। পৌষ ও মাঘ মাসের হাড় কাঁপানো শীতকে সামনে রেখে এখন গরম পোশাক কিনছে সবাই। উচ্চ আয়ের মানুষেরা বিভিন্ন নামি-দামি মার্কেটে গরম কাপড় কিনতে পারলেও নিম্ন আয়ের মানুষের একমাত্র ভরসা এই পালং বাজারের ফুটপাতের শীতবস্ত্রের দোকানগুলো।এটি নিম্ন আয়ের মানুষের কেনাকাটার জায়গা বলে পরিচিত হলেও এখানে মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজনও কেনাকাটা করতে আসে। প্রতিবছর শীতের মৌসুম এলেই পালং বাজারের ফুটপাতের শীতবস্ত্র দোকানগুলোতে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে হরেক রকমের শীতের পোশাক নিয়ে চলে আসেন।প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতা- বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর থাকে এ পালং বাজারের ফুটপাতের দোকানগুলো। সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় ফুটপাতে কাপড় কিনতে আসা সদর পৌরসভা এলাকার বিথীকা রানী দাসের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় প্রতি বছরই এই পালং বাজারের ফুটপাতের শীতবস্ত্র দোকান থেকে তিনি পরিবারের সদস্যদের জন্য শীতের কাপড় কিনতে আসেন। স্বল্প মূল্যে ভালো মানের কাপড় পাওয়া যায় বলে এখানে আসেন । তিনি আড়াইশ টাকা দিয়ে স্বামীর জন্য একটি সোয়েটার ও একশ টাকায় ছেলের একটি সোয়েটার কিনেছেন। এখন মেয়ে ও নিজেরটা কেনার জন্য ঘুরছেন।একই সময় কথা হয় গৃহিণী ও পৌরসভার বালুচরা এলাকার কমলা আক্তারের সঙ্গে। তিনি জানান, শীতের তীব্রতা বাড়ার আগেই শীতবস্ত্রের চাহিদা মেটাতে এই পালং বাজারের ফুটপাতের শীতবস্ত্র দোকানগুলোতে এসেছেন। তিনি তার মেয়ে প্রিয়ার জন্য ষাট টাকা দিয়ে শীতের গেঞ্জি, ষাট টাকা দিয়ে একটি টাইস কিনেছেন।সদর উপজেলার সুজন দোয়াল এলাকা থেকে শীতের পোশাক কিনতে এসেছেন ট্রলিগাড়ি চালক রহিম মিয়া। তিনি বলেন, ফুটপাতের দোহান হচ্ছে গরিবের শপিং কমপ্লেক্স। সকাল ও সন্ধ্যার পরে যে শীত পড়া শুরু হইছে, গাড়ি চালাইলে শীতে শরীর জমে যায়। শীত হইলে গরীবেরই বেশি কষ্ট, তাই মোটা কাপড় কিনতে আইছি। দেহি কী কেনন যায়।ফুটপাতের মৌসুমি কাপড় ব্যবসায়ী মো. সোহাগ খান বলেন, প্রায় ৯ বছর ধরে আমি এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমরা ঢাকা থেকে এই পুরাতন পোশাকের গাইট ও গার্মেন্টসের রিজেক্ট মাল (বস্তা) কিনে এনে ব্যবসা করি। তিনি জানান, গাইটের মধ্যে পুরুষের কোর্ট, জ্যাকেট, সোয়েটার, মাফলার, টুপি, হাত মোজা, পা মোজা ও নারীদের চাদর, কম্বল, বিভিন্ন ধরনের ব্যাগসহ আরো বিভিন্ন ধরনের উপকরণ থাকে। কোয়ালিটির উপর নির্ধারণ করে একেকটি গাইট। প্রতি গাইটে প্রায় শতাধিক কাপড় থাকে। এর মধ্যে প্রতিটি কোর্টের মূল্য রয়েছে ২০০ থেকে ২৫০, জ্যাকেট ১৫০ থেকে ২৫০, সোয়েটার ১০০ থেকে ২০০ পর্যন্ত।অপর একজন মৌসুমি কাপড় ব্যবসায়ী আজম সরদার বলেন, সাড়ে চার বছর ধরে পালং বাজারের ফুটপাতে ব্যবসা করি। এর আগে এই স্থানে কাপড় বিক্রি হলেও তেমন একটা জমে উঠতো না। বিক্রি ছিল স্বাভাবিক। পালং বাজারের ফুটপাতের ব্যবসায়ী রয়েছে দেড় শতাধিক। তাই আগের থেকে দোকানও বেড়েছে বিক্রিও বেড়েছে। মো. ছগির হোসেন/আরএআর/এমএস