প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রাপ্ত লাল-সবুজের ‘বীর নিবাস’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে একতলা ভবন পেলে মির্জাপুরের ১৩ মুক্তযোদ্ধা পরিবার। ভূমিহীন ও অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে এ ভবন তৈরি করে দেয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন উপজেলার সব মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ। এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) আওতায় চলমান ‘ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।টাঙ্গাইল ও মির্জাপুর এলজিইডি অফিস সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে এ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে প্রায় এক কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩ জন অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বাসস্থানের জন্য ১৩টি একতলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৩টি ভবন ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ করে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সরেজমিন মির্জাপুর উপজেলা সদরের পোস্টকামুরী গ্রামে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মো. আয়নাল হকের বাড়িতে ‘বীর নিবাস’ একতলা ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ করে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় কথা হয় মুক্তিযোদ্ধা আয়নাল হকের স্ত্রী পারভীন বেগম ও একমাত্র মেয়ে মারজানা বেগমের সঙ্গে। পারভীন বেগম বলেন, তার স্বামী স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকিস্তানিদের সঙ্গে যুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছেন। গত প্রায় সাড়ে চার বছর আগে তার স্বামী আয়নাল হক একমাত্র মেয়ে মারজানাকে রেখে মৃত্যুবরণ করেন। মেয়ে মারজানা বেগম বলেন, গর্ব করে বলতে পারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে আমার বাবা আয়নাল হক মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ‘বীর নিবাস’ পেয়ে আমরা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছি।উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের খলিয়াজানি গ্রামের অরুন কুমার রায়, উয়ার্শী ইউনিয়নের দেউলীপাড়া গ্রামের মো. ইকবাল খান ও নাগরপাড়া গ্রামের আলমাছ খান, ভাদগ্রাম ইউনিয়নের মরহুম ফেরদৌস আলী মিয়ার স্ত্রী রোকেয়া বেগম, ফতেপুর ইউনিয়নের বহনতলী গ্রামের মরহুম তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী আমেনা বেগমকে বীর নিবাস হস্তান্তর করা হয়। এ ছাড়া আনাইতারা ইউনিয়নের দুপুরিয়া গ্রামের মমরেজ আলী ও আমির আলী, ভাওড়া ইউনিয়নের ভাওড়া গ্রামের আওলাদ হোসেন, বহুরিয়া ইউনিয়নের যোগেন্দ্র সরকার, জামুর্কী ইউনিয়নের সাটিয়াচড়া গ্রামের আবেদ আলী, বানাইল ইউনিয়নের ভাবখণ্ড গ্রামের মরহুম জহির উদ্দিনের স্ত্রী ডলি বেগম ও মহেড়া ইউনিয়নের ডোকলাহাটি গ্রামের মরহুম সৈয়দ জতির স্ত্রী সৈয়দ আশরাফুন নাহারের পরিবারকে একতলা ভবন ‘বীর নিবাস’ হস্তান্তর করা হয়েছে।বীর নিবাস পেয়ে তারা অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে জানান, তাদের একজনেরও থাকার জন্য ভালো ঘর ছিল না। স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো সরকার খবরই রাখতো না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা ৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা চিন্তা করে ভাতার ব্যবস্থা চালু করেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনেক সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করছেন। বীর নিবাস পাওয়া অনেকেরই ভালো মানের টিনের ঘরে বসবাস করা ছিল স্বপ্নের মতো। কখনো তারা কল্পনাও করতে পারেননি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য তারা পাকা ভবন পাবেন। এস এম এরশাদ/এএম