জেলা পরিষদ নির্বাচনের আর চারদিন বাকি। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচন নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভোটারদের মাঝে তেমন কোনো আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। কেননা নির্বাচনে সাধারণ ভোটার নয় বরং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভোটের মাধ্যমেই নির্বাচিত হবেন চেয়ারম্যন ও কাউন্সিলর। তবে ভোটের উত্তাপ না থাকলেও আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীকে নিয়েই যেন ভোটারদের সব কৌতুহল। জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ এ কে এম এমদাদুল বারীকে নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। যদিও বয়সের ভারে অনেকটাই কাবু প্রবীণ এই রাজনীতিক। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন আরও দুই প্রার্থী। এরা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি শফিকুল আলম (এম.এস.সি) ও ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন। তবে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইটা মূলত আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এমদাদুল বারীর ‘চশমা’ প্রতিক ও শফিকুল আলমের ‘আনারস’ প্রতীকের মধ্যেই হবে বলে মনে করছেন সবাই।প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর থেকেই প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নেমে পড়েন চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। জেলার সর্বত্র এখন শোভা পাচ্ছে চেয়ারম্যান-কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টার। বয়সে কাবু হওয়ায় আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী কয়েকজনের কাঁধে ভর করে তার প্রচারণা চালাচ্ছেন। শারীরিক দুর্বলতার কারণে অন্য প্রার্থীর তুলনায় ভোটারদের সঙ্গে এমদাদুল বারীর যোগাযোগও কিছুটা কম। প্রথমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার আশা করলেও প্রার্থী বেড়ে যাওয়ায় তাকে নিয়ে বেকায়দায় পড়ে যান দলের নেতারা। অন্য প্রতিদ্বন্দ্বিরা ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি ছুটে গেলেও এমদাদুল বারী যাচ্ছেন উপজেলা সদরে শুধু ভোটারদের নিয়ে দল আয়োজিত সমাবেশগুলোতে।জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই পদধারী নেতার অনুসারী দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দল মনোনীত প্রার্থী এমদাদুল বারীর পক্ষে কাজ করলেও আওয়ামী লীগের একটি অংশ পর্দার আড়াল থেকে সমর্থন দিচ্ছেন অপর চোরাম্যান প্রার্থী শফিকুল আলমকে। এছাড়া কাউন্সিলর প্রার্থীরাও তাদের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ক্লান্তিহীন মনোভাব নিয়ে।এদিকে, এমদাদুল বারীর বিরুদ্ধে আচরণ-বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল আলম। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে করা অভিযোগে শফিকুল আলম বলেন, এমদাদুল বারী দলীয় ব্যানারে এবং দলের স্লোগান ব্যবহার করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রচারণায় জেলার ৬ জন সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে ভোট চাচ্ছেন। সাংসদদের সম্মান রক্ষায় তাকে ভোট দেয়ার জন্যে ভোটারদের লিখিতভাবে বলা হচ্ছে। এছাড়া প্রকাশ্যে চশমা প্রতীকে ভোট না দিলে ভোটারদের স্ব-স্ব এলাকার উন্নয়ন বন্ধ করে দেয়া হবে, যা নির্বাচনের আচরণ-বিধি লঙ্ঘন। তাছাড়া প্রচানায় বিভিন্ন উপজেলার মিলনায়তন ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শফিকুল আলম। শফিকুল আলম ৬ নং ওয়ার্ডের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ৭নং ওয়ার্ডের বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কেন্দ্র, ৮নং ওয়ার্ডের আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন কেন্দ্র, ৯নং ওয়ার্ডের কসবা মহিলা কলেজ কেন্দ্র ও ১০ নং ওয়ার্ডের কসবা সৈয়দাবাদ এস.এম মনিরুল হক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রকে খুবই ঝুঁকিপুর্ণ উল্লেখ করে এসব কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেট ও পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সিসি ক্যামেরা লাগানোর আবেদন জানান নির্বাচন কমিশনে।আবেদনে আরও বলা হয়, উল্লেখিত কেন্দ্রসমূহ এমদাদুল বারীর দলীয় অফিস ও গ্রামের বাড়ি সংলগ্ন হওয়ায় ওই কেন্দ্রে প্রকাশ্যে সিল মারার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ভোটারদের প্রকাশ্যে ভোট দেয়ার জন্যে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা কোথাও মিলনায়তন ব্যবহার করিনি। লিখিতভাবে ভোট দেয়ার কথা বলে কোনো চিঠিও দেয়া হয়নি। ভোট প্রকাশ্যে দেয়ার কথা ভোটাররা আবেগে বলেন, আমরা নই।আজিজুল সঞ্চয়/আরএআর/আরআইপি