দেশজুড়ে

‘ভোট কম পড়লে উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ’

লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে ওপেন ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ভোটারদের চাপ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। বিষয়টি সোমবার নির্বাচনের রিটানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসককে (ডিসি) অবগত করেছেন প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শামছুল ইসলামকে আনারস প্রতীকে ওপেন ভোট দিতে কঠোরভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে রায়পুর সোমবার দুপুরে পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ভোটারদের জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ওপেন ভোট দিতে হবে। সভার প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদও গোলাম ফারুক পিংকুর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ওপেন ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যে কেন্দ্রে একটি ভোট কম পড়বে, ওই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ দায়িত্বশীলদের জবাবদিহিতা করতে হবে। ওই এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আওয়ামী লীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছেন, দলের মতবিনিময় সভা শেষে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন ৬নম্বর ওয়ার্ডের (পৌরসভা, কেরোয়া, বামনী, ইত্তর হামছাদী ইউনিয়ন) সদস্য প্রার্থী জামশেদ কবির বাক্কি বিল্লাহর জলসা ঘরে ওই ওয়ার্ডের ভোটারদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় করেন। সেখানে বাক্কি বিল্লাহকে ওপেন ভোট দিতে বলেন নয়ন। যে ভোটাররা ওপেন ভোট দিতে রাজি হবে না, তাদের নাম লিখে রাখা হবে বলে উপস্থিত ভোটারদের সাফ জানিয়েছেন তিনি।৬নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মো. হারুনের রশীদ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন সদস্য প্রার্থী জামশেদ কবির বাক্কি বিল্লাহকে ওপেন ভোট দিতে বলেছেন। সদস্য প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের শপথ করানো, টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে (ডিসি) জানানো হয়েছে।৪নং ওয়ার্ডের (দক্ষিণ চর আবাবিল, উত্তর চর আবাবিল, রায়পুর ও চরপাতা ইউনিয়ন) সদস্য প্রার্থী মঞ্জুর হোসেন সুমন বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা ২০ হাজার টাকা করে ভোটারদের ধরিয়ে দিয়ে শপথ করাচ্ছে। তারা ভোটারদের ভয়-ভীতিও দেখাচ্ছেন।চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এম আলাউদ্দিন বলেন, ভোট হচ্ছে আমানত, এটি গোপনীয় বিষয়। প্রকাশ্যে ভোট দিতে হলে প্রশাসনের প্রয়োজন কী ? বিষয়টি রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছি।এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে সন্ধ্যায় জেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসককে (ডিসি) মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরীর ফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।কাজল কায়েস/এআরএ/আরআইপি