পক্ষ-বিপক্ষের শোডাউন, পাল্টা শো-ডাউন আর নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দীর্ঘ ১৩ বছর পর শেরপুরে জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার শহরের গৃর্দানারায়নপুর বিপ্লব-লোপা মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন শেষে নেতৃত্ব নির্বাচনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে গোপন ভোট হলেও সংঘাত এড়াতে গণনা ও কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়নি। কেন্দ্র থেকে পরে কমিটির নাম প্রকাশ করা হবে বলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ঘোষণা করেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট শেষে খোদ ভোটবাক্সই সিলগালা করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ঢাকায় নিয়ে গেছেন। সেখানে মঙ্গলবার দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে তা গণনা শেষে নির্বাচিত নেতাদের নাম ঘোষণা করা হবে। সূত্র জানায়, জেলা বিএনপির সম্মেলনকে ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরেই সভাপতি পদে বিদায়ী আহ্বায়ক মাহমুুদুল হক রুবেলের নাম এককভাবে শোনা গেলেও সাধারণ সম্পাদক পদে বিদায়ী যুগ্ম আহ্বায়ক, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক আশীষ, শহর বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম স্বপন ও সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শিল্পপতি আলহাজ মো. হযরত আলীর নাম শোনা যাচ্ছিল। তবে সম্মেলনের দিনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থিতা আহ্বান বা প্রার্থিতা ঘোষণা ব্যতিরেকে সাবজেক্ট কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পছন্দের নাম আহ্বান করা হয়। এ সময় জেলার ৫ উপজেলার ৯টি ইউনিটের ৪৫ জন কাউন্সিলরের ভোটারের মধ্যে ৪৩ জন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সরবরাহ করা ফরমে সভাপতি-সম্পাদকের নাম উল্লেখ করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। কিন্তু ওই প্রক্রিয়া শেষে তাৎক্ষণিক তা গণনা না করে সিলগালা করে নেয়া হয় ঢাকার জন্য।এর আগে দুপুর ১২টার দিকে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমরা বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের রাজনীতি করি। কিন্তু বর্তমান সরকার বাকশাল-নকশাল আর গণবাহিনী প্রতিষ্ঠা করেছে। এরা গণতন্ত্র পছন্দ করে না। সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন। জেলা বিএনপির আহ্বান, সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেলের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সসহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন ও মো. শরিফুল আলম এবং জাতীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী। হাকিম বাবুল/এএম