দেশজুড়ে

আমেজহীন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচন

দেশজুড়ে জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করলেও টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে নেই কোনো আমেজ। জেলার ১২টি উপজেলার প্রার্থীরা এ নির্বাচনে অংশ নিলেও নির্বাচনে কোনো প্রাণ খুজে পাচ্ছে না এ জেলার সাধারণ মানুষ।১৫টি সাধারণ ওয়ার্ডের সদস্য পদে ৫৩ জন ও ৫টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য পদে ১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে জাঁকজমক পূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হলেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় কোনো নির্বাচনী আমেজ দেখা যাচ্ছে না এ জেলায়।জেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলমগীর খান মেনু, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শওকত রেজা ও ফজলুল হক মল্লিক মনোনয়নপত্র জমা দেন।কিন্তু ৪ ডিসেম্বর বাছাইয়ের দিন আলমঙ্গীর খান মেনু ও শওকত রেজার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। এদিকে প্রত্যাহারের শেষ দিন ১১ডিসেম্বর নির্ধারিত থাকলেও এর  আগের দিনই দলীয় চাপে ফজলুল হক মল্লিক মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। যে কারণে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান খান ফারুক। এ কারণে জেলায় চেয়ারম্যান পদে আর নির্বাচন হচ্ছে না। তবে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার জেলার ১১১টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা নিয়ে ১৫টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ৫টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে।এর মধ্যে জেলা পরিষদের ১নং ওয়ার্ডে রয়েছে টাঙ্গাইল পৌরসভা, করটিয়া, ঘারিন্দা ও গালা ইউনিয়ন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, টাঙ্গাইল সদরের আহমদ সুমন মজিদ-প্রতীক ঘুড়ি, মেহেদী হাসান ফেরদৌস প্রতীক-উট পাখি, মো. আকরাম হোসেন কিসলু-প্রতীক হাতি, মো. আবদুর রউফ-তালা, মো. আসাদুজ্জামান পবন-টিউবওয়েল, সৈয়দ আরমান হোসেন-বৈদ্যুতিক পাখা।২ নং ওয়ার্ডে রয়েছে মগড়া, বাঘিল, দাইন্যা, পোড়াবাড়ী, ছিলিমপুর, কাকুয়া, হুগড়া, কাতুলী এবং মাহমুদনগর ইউনিয়ন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, টাঙ্গাইল সদরের ইকবাল আলম-ঘুড়ি, মোহাম্মদ ইয়াহিয়া দেওয়ান-টিউবওয়েল, মো. আজাদ দেওয়ান-হাতি ও মো. আমিরুল ইসলাম-তালা।৩ নং ওয়ার্ডে রয়েছে আটিয়া, দেলদুয়ার, ডুবাইল, ফাজিলহাটি, লাউহাটি, এলাসিন, দেউলী, পাথরাইল, ভারড়া ও সহবতপুর ইউনিয়ন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, দেলদুয়ারের খন্দকার হামীম কায়েছ (বিপ্লব) টিউবওয়েল, মো. গোলাম কিবরিয়া-উট পাখি, মো. ফজলুল হক-তালা, শ্রী প্রভাংশু রঞ্জন সোম-হাতি।এ ছাড়া সাধারণ আসনের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ড নিয়ে ১নং সংরক্ষিত আসনে মহিলা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী টাঙ্গাইল সদরের আমেনা আক্তার (মিনু আনোহলী)-বই, উষা আকতার-ফুটবল, খন্দকার দিলরুবা করিম-হরিণ, নাজমুজ সালেহীন দোয়াত-কলম, নাসিমা আক্তার টেবিল-ঘড়ি, ফেরদৌসী আক্তার রুনু-কম্পিউটার, মীর ফাহমিদা জেরিন-মাইক।  ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড নিয়ে ২নং সংরক্ষিত আসনে, নাগরপুরের মোছা. ছাইদা ইয়াছমিন-দোয়াত কলম, মির্জাপুরের সালমা সালাম উর্মি-ফুটবল। ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড নিয়ে ৩নং সংরক্ষিত আসনে কালিহাতীর আছমা খান-বই, রোকেয়া সুলতানা-ফুটবল, সখিপুরের রুমা খান-হরিণ, বাসাইলের শাম্মী আক্তার মুক্তি-দোয়াত কলম। ১০, ১১ ও ১২ নং ওয়ার্ড নিয়ে ৪নং সংরক্ষিত আসনে ভূঞাপুরের মিসেস নাছিমা বাছিত-হরিণ, ঘাটাইলের রাজিয়া হোসেন-টেবিল ঘড়ি।১৩, ১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ড নিয়ে ৫নং সংরক্ষিত আসনে ধনবাড়ীর মোছা. মাহমুদা খাতুন-হরিণ, গোপালপুরের হাসনা হেনা দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।আরিফ উর রহমান টগর/এএম/এমএস