দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিষমুক্ত জৈব সারের ব্যবহার। কেঁচো পদ্ধতিতে জৈব সার তৈরি করে বেকার যুবকরা তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছেন। একই সঙ্গে এ কাজ করে সংসারে আর্থিক সচ্ছলতা আনছেন গ্রামের গৃহবধূরাও।কৃষকরা বলছেন, বাজারের রাসায়নিক সারের থেকে জৈব সার জমিতে ব্যবহার করলে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। এতে ফলনও বাড়ে। আর রাসয়নিক সারের থেকে জৈব সার বাজারে অনেক কম দামে পাওয়া যায়, এজন্য উৎপাদন খরচও কমে গেছে।জৈব সার তৈরিকারক উপজেলা পৌর এলাকার উত্তর সুজাপুর গ্রামের নুর ইসলাম জানান, পঞ্চগড় হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড থেকে গত ছয় মাস আগে প্রশিক্ষণ নিয়ে কেঁচো দিয়ে জৈব সার তৈরি করা শুরু করেছেন। এখন সে এই সার তৈরি করে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা আয় করছেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে তার এই আয় বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ হাজার টাকা হবে।পশ্চিম গৌরী পাড়া গ্রামের শাকিল আলম জানান, তিনিও একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়ে গত তিন মাস থেকে সার তৈরি করতে শুরু করেছেন। এখন তার মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকা। প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর গ্রামের কয়েকজন গৃহবধূকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তারা। প্রশিক্ষণ পাওয়া গৃহবধূরাও সার তৈরি করে এখন সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে।উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের পূর্ব জাফরপুর ঘুঘুজান গ্রামের গৃহবধূ ফেরদৌসী বেগম মাত্র ১৫শ টাকার কেঁচো নিয়ে জৈব সার তৈরি শুরু করেন, ছয় মাসের ব্যবধানে এখন তার মাসিক আয় ১০ হাজার টাকা। একই কথা বলেন উত্তর সুজাপুর গ্রামের আক্তারা বেগম, ইসমত আরা বেগম ও মঞ্জিলা বেগম তিন বোন, এই জৈব সার তৈরি করে এখন সাবলম্বী।জৈব সার প্রস্তুতকারক নুর ইসলাম বলেন, শুধু গোবর আর কেঁচো একটি রিংয়ের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ দিন রাখলে কেঁচোগুলো গোবর খেয়ে যে মল ছাড়ে সে গুলো জৈব সার হিসেবে তৈরি হয়। এই কেঁচোগুলো এক প্রকার বিশেষ জাতের কেঁচো, যা বাজারে কেজি দরে কিনতে পাওয়া যায়।জৈব সার ব্যবহারকারী পূর্ব রাজারামপুর ঘাটপাড়া গ্রামের পাপ্পু জানান, তিনি আলুখেতে জৈব্যসার ব্যবহার করে দ্বিগুণ ফসল পেয়েছেন।একই কথা বলেন ভেটাই গ্রামের ইমান আলী, মাদিলা হাট এলাকার জিয়াবুর রহমান ও আমতলী এলাকার লিটন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হামিম আশরাফ বলেন, এখন বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনের জন্য সরকার ঘোষণা দিচ্ছে, আর বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন করতে হলে জৈব সার ব্যবহার করার বিকল্প নেই। এজন্য আমরা জৈব সার ব্যবহার করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। তিনি আরও বলেন, জৈব সার জমিতে ব্যবহার করলে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়।এতে ফসল উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়।আরএআর/জেআইএম