১ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির ২০ বছর। ১৯৯৬ সালের এ দিনে ভারতে হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেব গৌড়া এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ নিজ দেশের পক্ষে ৩০ বছর মেয়াদী পানি বণ্টন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো বছরেও বাংলাদেশ তার নায্য হিস্যা পায়নি। তবে এবারে পানির প্রবাহ সবচেয়ে বেশি বলে হাইড্রোলজি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় জলবায়ু পরিবর্তন। কিন্তু পদ্মা নদী বেষ্টিত ৬টি জেলার অন্তত ২ কোটি মানুষ ফারাক্কার বাঁধের বিরুপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। দেশের বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প, পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প, পানাসি প্রকল্প, বরেন্দ্র প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের হাজার হাজার একর জমিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও পাম্প ব্যবহার করে সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ১৫টি পিলারের মধ্যে ১১টি পিলারই শুকনো চরে দণ্ডায়মান। যে ৪টি পিলার পানিতে রয়েছে তার আশপাশে মানুষ চাষাবাদ করছে। নদীতে মাছ নেই। জেলেরা নৌকা দিয়ে জাল টেনে নিজেদের খাবারের মাছও যোগার করতে পারছে না। এদিকে ফারাক্কার প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের ৫৪ টি নদী শুকিয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলো পানি শূন্য হয়ে পড়ছে। পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল হক বলেন, চলতি বছর পদ্মার পানি প্রবাহ সবচেয়ে বেশি। শনিবার পানির প্রবাহ ছিল প্রায় ১ লাথ ৪০ হাজার কিউসেক। যা গত ২০ বছরের মধ্যে বেশি। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পবির্তনের কারণে পৃথিবীর নদীগুলোর ভূগর্ভস্থ উচ্চতা বেড়েছে এবং পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। পানি চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো বছরেও বাংলাদেশ নায্য হিস্যা পায়নি। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন বলে তিনি দাবি করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম জহুরুল হক বলেন, চুক্তি অনুযায়ী (১-১০ জানুয়ারি) প্রথম মাসের প্রথম সাইকেলে গড়ে প্রতিদিন ৬৭ হাজার ৬৫০ কিউসেক পানি পাওয়ার কথা। ৩১ ডিসেম্বর সেই পানির প্রবাহ ছিল ৭৪ হাজার কিউসেক। তিনি আরও বলেন, পানি না পাওয়ায় ইতিমধ্যে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ পাম্প বন্ধ হয়েছিল। পদ্মার পশ্চিমপাড় ভেড়ামারাসহ আশপাশের এলাকার আবহাওয়া ও পরিবেশ আস্তে আস্তে পাল্টে যাচ্ছিল। কিন্তু এবার আশার সঞ্চার হয়েছে। আজ ১ জানুয়ারি ভারতীয় জল ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পানি কমিশনের উপ-পরিচালক কৃষ্ণা রাও এবং সহকারী পরিচালক ডি বেনুগোপাল পানি প্রবাহ পর্যবেক্ষণে ভারতীয় পক্ষের নেতৃত্বে দেয়ার কথা রয়েছে। আর বাংলাদেশে পানি প্রবাহ পর্যবেক্ষণে ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলীয় ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম জহুরুল হক। থেকেআরএআর/পিআর