দেশজুড়ে

পুড়ে গেলো চাষির স্বপ্ন

গাজীপুরে স্কোয়াশ চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় কপাল পুড়েছে চাষির। সেই সঙ্গে পুড়ছে চাষির স্বপ্ন, মরে যাচ্ছে তার লাভবান ফসল স্কোয়াশ। জানা গেছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১১নং ওয়ার্ডের কাতলাখালী এলাকায় চাষ করা হয়েছে বিদেশি সবজি স্কোয়াশ। চাষি মো. আজহার মিয়া স্কোয়াশ চাষ করে প্রথমে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় এখন তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় মরে যেতে শুরু করেছে গাছ ও স্কোয়াশ। বিবর্ণ মলিন হয়ে যাচ্ছে চাষি আজাহার মিয়ার মুখের হাসি। গত অক্টোবর মাসের মাঝামাঝিতে ৯০০ স্কোয়াশ গাছের বীজ লাগান তিনি। এক মাস পরে ফলন ধরতে শুরু করে। প্রথম ফলন দেখে সফলতার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন চাষি মো. আহজার মিয়া। এর কিছু দিন পর ওই এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রায় অর্ধশতাধিক ইটভাটা চালু হয়ে যায়।সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ইটভাটার অনুমোদন না থাকলেও আইনের বিভিন্ন ফাঁক ফোকরে প্রশাসনের সকলকে ম্যানেজ করে উৎপাদন শুরু করে এসব ইটভাটা। এরপর থেকে মো. আহজার মিয়ার স্কোয়াশ চাষ মরতে বসেছে। হলুদ হয়ে যাচ্ছে গাছের পাতা। মরে যাচ্ছে স্কোয়াশ। পুড়ে যাচ্ছে তার স্বপ্ন। অনেকেই নতুন এই সবজির নাম জানে না। কেউ এটাকে বলছে বড় শসা, মিস্টি কুমড়া, খিরাই, তরমুজ বা বাঙ্গি। স্কোয়াশ লম্বায় ১৬ ইঞ্চির বেশি হয়ে থাকে। গাছও তেমন একটা বড় হয় না। স্কোয়াশ গাছের পাতা মিস্টি কুমড়ার পাতার মতো দেখতে। অল্প দিনে সবজিটি খাওয়া অথবা বাজারে তোলার উপযোগী হয়ে ওঠে। প্রতি কেজি স্কোয়াশ ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি করা যায়। স্কোয়াশ চাষে সার ও শ্রমিক ছাড়া তেমন কোনো খরচ নেই।  চাষি মো. আজহার মিয়া জানান, বাংলাদেশে স্কোয়াশ শীতকালীন নতুন সজবি। অনেকেই এটার নামও জানে না। অক্টোবরের মাঝামাঝিতে ৯০০ স্কোয়াশের বীজ লাগাই। প্রথমে গাছে প্রচুর ফলন দেখা দেয়। ফলনও অনেক ভাল হয়। ইটভাটা চালুর হওয়ার কিছুদিন পর লক্ষ্য করে দেখি অনেক স্কোয়াশ মরে যাচ্ছে। গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। বাজারে স্কোয়াশের চাহিদা অনেক ভাল। অনেকেই খেত থেকে স্কোয়াশ কিনে নিয়ে যায়। বাজারেও খুচরা ও পাইকারদের কাছে এর চাহিদা অনেক বেশী। ইটভাটার কালো ধোয়ায় সঙ্গে বের হওয়া কালি গাছের উপরে পড়ে থাকে। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। ইটভাটা না থাকলে স্কোয়াশ চাষ করে লাভবান হয়া সম্ভব। এতে খরচও অনেক কম। এখন ইটভাটার কারণে লোকশান ছাড়া অন্য কিছু চিন্তা করা যায়না। স্থানীয় বাসিন্দা মো. বদরুল আলম জানান, আমাদের এলাকায় স্কোয়াশ চাষ হয়েছে এই প্রথমবার। স্কোয়াশ গাছ দেখতে অনেক সুন্দর। সারিবদ্ধভাবে গাছ লাগানো হয়। গাছে ফলন আসলে আরোও ভাল দেখা যায়।   এ ব্যাপারে গাজীপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তা (উপ-পরিচালক) মাসুদ রেজা বলেন, গাজীপুরে কোথাও স্কোয়াশ চাষ হয় না। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কেউ চাষ করেতে পারে আমার জানা নেই। স্কোয়াশ রান্না করে ও সালাদ হিসেবে খাওয়া যায়। দেখতে শসার মতো তবে অনেক লম্বা ও মোটা হয়। ইটভাটা শুধু স্কোয়াশ না যেকোনো ফসলের জন্য ক্ষতিকর।এফএ/এমএস