দেশজুড়ে

কক্সবাজারে শত কোটি টাকার বাণিজ্য

শনিবার সূর্যাস্তের মধ্য দিয়ে কালের গর্ভে হারিয়ে গেল ২০১৬ সাল। রোববার উদিত হয়েছে ২০১৭ সালের নতুন সূর্য। ২০১৬ কে পেছনে ফেলে সূর্যের শেষ প্রস্থান দেখতে বছরের শেষ সপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার সকাল থেকে কক্সবাজার সাগরমুখী মানুষের দীর্ঘ লাইন ছিল চোখে পড়ার মতো। বর্ষবরণ ও বিদায়কে স্বাগত জানাতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে আয়োজন করা হয় বর্ণিল অনুষ্ঠানের। এসব আয়োজনে অংশ নিয়ে ইতিহাসের ধারক হতে সৈকত নগরীতে অবস্থান নেন লাখো পর্যটক। খালি ছিল না শহরের হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস ও কটেজের কক্ষ। থার্টি ফার্স্ট নাইটকে ঘিরে গত কয়েকদিন থেকে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না কক্সবাজারে। পর্যটকে টইটম্বুর পর্যটন রাজধানীর সর্বত্র। এ আশানুরূপ পর্যটকের উপস্থিতিতে কক্সবাজারে শতকোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে। আবাসন, ভোগবিলাস, ট্রান্সপোর্ট, ইন্টারটেইনমেন্টসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় এ বাণিজ্য হয়েছে বলে মন্তব্য করেন কক্সবাজার চেম্বার সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা। তিনি বলেন, হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজ এবং রেস্ট হাউস মালিক কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, কক্সবাজারে অর্ধসহস্রাধিক আবাসন সেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে লাখো মানুষের রাতযাপনের ব্যবস্থা করা যায়। সৈকত তীরে আসা ভ্রমণপিপাসুদের আহার সংস্থানে রয়েছে অভিজাতসহ বিভিন্ন ধরনের কয়েকশ রেস্তোরাঁ। যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত যানবাহন ছিল। বর্ষবিদায় ও বরণ উপলক্ষে তিনদিন ধরে সৈকতে অবস্থান করা লাখো পর্যটক পর্যটন সংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহণ করেছে। সব মিলিয়ে গড় হিসাবে দৈনিক ৩০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে। তার কথার সায় দিয়ে ট্যুরস অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ভ্রমণপিপাসু সেন্টমার্টিন গেছেন। জাহাজ অনুসারে টিকিটের মূল্যের তারতম্য বিবেচনা করে গড়ে পার টিকিট এক হাজার টাকা হলে শুধু টিকিট মূল্য এসেছে প্রায় কোটি টাকা। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, আয়ের বাড়তি জোগান দিয়েছে হোটেল-মোটেল জোনে চলমান কক্সবাজার শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। সন্ধ্যার পর থেকে স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা ভিড় জমান মেলায়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নাগরদোলা, নৌকা ও রেল রাইডসে চড়ার পাশাপাশি জাদু, মোটরসাইকেল গেম দেখে এবং পরিবার ও নিজের প্রয়োজনীয় নানা পণ্য সামগ্রী ক্রয় করেছেন আগতরা। শনি ও রোববার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ মেলায় আসেন বলে জানান আয়োজক কমিটির প্রধান সমন্বয়ক সাহেদ আলী সাহেদ। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির অর্থ সম্পাদক আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান কোম্পানির মতে, সবদিক দিয়েই ব্যবসা ভালো হয়েছে এটা মানতে হবে। কিন্তু শত কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে এটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। ব্যবসা করতে গেলে কিছু কিছু কথা খোলাসা করে বলা যায় না বলেও রসিকতা করেন তিনি। তবে পর্যটনে মন্দাভাব কেটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।  সৈকতের তারকা হোটেল দ্য কক্স টু ডে’র রুম ডিভিশন ম্যানেজার অং ছা চিং চাক বলেন, ভালো ব্যবসা দিয়েই বছরের শুরুটা হয়েছে। এটি অল্প অল্প করেও যদি অব্যাহত রাখা যায় তবে পর্যটন শিল্পে নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে। কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনসহ ভ্রমণে আসা পর্যটকে ভরে গেছে কক্সবাজার। গত কয়েক দিনের পর্যটক পরিস্থিতি একই রকম রয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর এসেছে। এতে বাণিজ্য ভালো হওয়ারই কথা। সরকারের ইচ্ছা কক্সবাজারকে পর্যটনের প্রধান গন্তব্য হিসেবে তৈরি করা। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ বলেন, বড়দিনের ছুটিসহ থার্টি ফার্স্ট নাইটের লোকারণ্য কক্সবাজারের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্ছিদ্র ছিল। ফলে কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে হোটেল-মোটেল জোন ও শহরের প্রধান এবং উপ-সড়কে ট্রাফিক জ্যাম ছিল ভোগান্তির পর্যায়ে। তিনি আরো বলেন, সামনের দিনগুলোতে পরিকল্পিত নগরায়ন বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ভ্রমণ ও পর্যটন ব্যবসা আরো সাচ্ছন্দ্যময় হবে। এ সময় পর্যটন শিল্প থেকে আরো বেশি আয় সম্ভব হবে এবং কক্সবাজার রাজস্ব আয়ের অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে। সে পথেই হাঁটছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।এমএএস/এমএস