স্বল্প সময়, স্বল্প খরচ, পরিশ্রমে অধিক ফলন ও ফসল বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ায় সরিষা চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে ভৈরবের কৃষকরা। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে রঙের উৎসব এনে দিয়েছে সরষে ফুল, যা প্রকৃতিতে ভিন্নমাত্রা এনে দিয়েছে। এ রঙের মেলায় প্রকৃতিকে যেন তার আপন খেলায় বড়ই হাস্যোজ্জ্বল দেখাচ্ছে।জেলায় প্রতি বছর আশাব্যঞ্জক বাড়ছে সরিষার আবাদ। বিজ বোনার সর্বোচ্চ ৮৫-৯০ দিনের মধ্যে সরিষার ফলন ঘরে তোলা যায় বলে বোরো আবাদের কোনো সমস্যা হয় না। সরিষা ‘বোনাস ফসল’ হিসেবে বেশ পরিচিতি।অল্প পরিমাণ ইউরিয়া ও টিএসপি ছাড়া আর কোনো সারের প্রয়োজন পড়ে না রবিশস্য আবাদে। চারা গজানোর পর পর আগাছা পরিষ্কার ছাড়া তেমন কোনো শ্রমেরও দরকার হয় না। তাই প্রতি বিঘা সরিষা আবাদে সর্বোচ্চ দেড় থেকে দুই হাজার টাকার খরচ হয় বলে জানান কৃষকরা।কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে সরিষার ফলন ৬-৭ মণ। বিক্রি করা যায় কমপক্ষে ১০-১২ হাজার টাকা। ফলে প্রতি বিঘা সরিষা আবাদে লাভ হয় ৮-১০ হাজার টাকা। তাই অল্প খরচে ভালো মুনাফা পাওয়ায় ধীরে ধীরে ভৈরবের কৃষকরা সরিষা আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছে।ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আদর্শপাড়ার কৃষক মনির মিয়া জানান, গত বছর দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। ভালো ফলন ও মুনাফা হওয়ায় তিনি এবার ৫ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। এবারও তিনি তেমনটি আশা করছেন।কৃষক মানিক মিয়া জানান, তাদের ভূমিগুলো অন্যান্য জমির চেয়ে উন্নতমানের। তাই এসব জমিতে সরিষা ফলন ভালো হয়। এক সময় তারা পৌষ মাসে অন্য আর কোনো ফসল করতেন না।স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ আর সহযোগিতায় ৪-৫ বছর ধরে সরিষার আবাদ করছেন। প্রথমে কিছু সংখ্যক কৃষক সরিষা আবাদে আগ্রহী হলেও এখন পুরো এলাকাজুড়ে সরিষার আবাদ হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সরিষা অল্পকালীন সময়ের ফসল হওয়ায়, সরিষা ঘরে উঠিয়ে বোরো আবাদে কোনো সমস্যা হয় না।কৃষকরা আরও জানান, বোরোর আগে সরিষা আবাদে অধিক মুনাফা ছাড়াও তাদের আলাদা লাভও হয়। সরিষার পাতা-লতা মাটিতে পড়ে জৈব সার তৈরি হয় বলে বোরোর জমিতে তাদের রাসায়নিক সার কম লাগে। এতে করে বোরো আবাদের অনেকটা খরচ তাদের কমে যায়।ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন জানান, ভৈরবে কৃষকরা কয়েক বছর আগেও সরিষা চাষে আগ্রহী ছিল না। কিন্তু কৃষি বিভাগের উৎসাহ-সহযোগিতায় কৃষকরা সরিষা চাষে এগিয়ে আসেন। পরবর্তীতে অল্প সময় অল্প খরচ আর স্বল্প শ্রমে বেশি মুনাফা পাওয়ায় প্রতি বছরই এখানে সরিষার আবাদ বাড়ছে। এবার উপজেলায় সরিষা আবাদ দুই হাজার হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কিন্তু আবাদ হয়েছে দুই হাজার দুইশত হেক্টর জমিতে।আসাদুজ্জামান ফারুক/এএম/জেআইএম