দেশজুড়ে

এক দশক ধরে ফেনী-তুলাবাড়িয়া সড়কে যান চলাচল বন্ধ

সড়কের অধিকাংশ পুকুরে বিলীন। দুর্ঘটনা এড়াতে লাগানো হয়েছে খুঁটি। যান চলাচল না করতে সড়কের মাঝখানে বাঁশ স্থাপন করা হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচঢালাও উঠে গেছে। শহরতলীর তুলাবাড়িয়া রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম সড়কের বেহাল দশায় গত প্রায় একদশক ধরে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন আশপাশের এলাকার শত শত মানুষ। শহরতলীর এ এলাকা যেন আলোর পাশে অন্ধকার।সরেজমিনে দেখা গেছে, কালিদহ ইউনিয়নের তুলাবাড়িয়া এলাকার সঙ্গে ফেনী শহরে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম সড়কটি। ওই সড়ক দিয়ে মাইজবাড়িয়া, কালিদহ, ছাগলনাইয়া, রানীর হাট, জয়নাল হাজারী কলেজ ও লালপোলসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ যাতায়াত করতো। হিন্দু অধ্যুষিত এ এলাকায় তুলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, বিবেকানন্দ কিন্ডার গার্টেনসহ বহু হিন্দু ধর্মীয় মন্দির পূজামণ্ডপ রয়েছে।সড়কে চলাচল করতে গিয়ে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও বহু পথচারী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক চলাচল করে। মাখন পাল নামের শতবর্ষী এক বৃদ্ধ জানান, শুধুমাত্র পূজা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রাতের বেলায় ফেনী-সোনাগাজী সড়কে দিয়ে এসে চলে যান। চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় এ সড়ক দিয়ে এখন আর কেউ ভয়ে চলাচল করে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ১০-১৫ বছরে এলাকার কোনো সড়কে এক মুঠো মাটিও পড়েনি। এটা হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এখানে উন্নয়ন হয় না। জনপ্রতিনিধিদের বার বার বলা হলেও কোনো কাজ হয়নি।বিবেকানন্দ কিন্ডার গার্টেনের প্রধান শিক্ষিক শিল্পী রাণী পাল জানান, এ সড়কের কারণে আমরা প্রতিনিয়িত ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে দুচিন্তায় থাকি। বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ের পাশে হাঁটতে গিয়ে পুকুরে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে।ফেনী পৌরসভার ১ নং ওর্য়াডের কাউন্সিলর লুৎফুর রহমান হাজারী খোকন জাগো নিউজকে বলেন, এ রাস্তার বেশিরভাগ অংশ পৌর এলাকার বাহিরে। তবে পৌর অংশটুকু বর্ষার আগে মেরামত করা হবে।কালিদহ ইউপির চেয়ারম্যান দিদারুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, সম্প্রতি আমি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছি। রাস্তার খোঁজ-খবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।জহিরুল হক মিলু/এএম/এমএস