পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় দিনাজপুর জেলার জাতীয় উদ্যান রামসাগর মিনি চিড়িয়াখানার ৪২টি হরিণ খাদ্য সংকটে পড়েছে। সেই সঙ্গে ছাউনি না থাকায় প্রচণ্ড শীতে খোলা আকাশের নিচে রোগাক্রান্ত হচ্ছে হরিণগুলো।জেলার জাতীয় উদ্যান রামসাগর মিনি চিড়িয়াখানায় প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এসব চিত্রা হরিণ। এখানে বেড়াতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরা অনেকটা সময় নিয়ে হরিণ দেখেন। আকর্ষণীয় এই হরিণগুলোর জন্য অনেকে খাবার নিয়ে আসেন। রামসাগর মিনি চিড়িয়াখানা আলোকিত করে রেখেছে এসব চিত্রা হরিণ।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ১২ আগস্ট রামসাগর জাতীয় উদ্যানের মিনি চিড়িয়াখানায় ৬টি চিত্রা হরিণ নিয়ে আসা হয়। চিড়িয়াখানায় প্রতি বছর নতুন নতুন অতিথির জন্ম নেয়ায় হরিণের সংখ্যা বর্তমানে ৪২টিতে দাঁড়িয়েছে। অথচ খাদ্য সংকটের কারণে হরিণগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে না।জানা গেছে, হরিণগুলোর খাবারের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট নেই। বর্তমানে দানাদার খাদ্য না পাওয়ায় স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কৃমিনাশক ট্যাবলেট না দেয়ায় হরিণগুলো প্রকৃত সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলছে। রামসাগর দীঘিতে জন্ম নেয়া বুনো শাপলা এতদিন হরিণগুলোকে খেতে দেয়া হতো। বর্তমানে সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে।জেলা প্রশাসন থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাছ শিকারের অনুমতি দেয়ার পর মাছ শিকারিরা রামসাগর দীঘির চার পাশের বুনো শাপলা পরিষ্কার করে ফেলে। অপরদিকে ইঞ্জিনচালিত নৌকার কারণেও বুনো শাপলাগুলোপরিষ্কার করা হয়েছে। শিকড় থেকে তুলে নেয়া হয়েছে বুনো শাপলার গাছ।হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দিনাজপুর জেলা হওয়ার কারণে এ এলাকায় শীত বেশি। চিড়িয়াখানায় শীত প্রতিরক্ষা ছাউনি না থাকায় হরিণগুলো শীতে কষ্ট পাচ্ছে।রাসসাগরের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল সালাম তুহিন জানান, রামসাগরের বন ও চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক দেখভাল করে বন বিভাগ। আর সাগরের দেখভাল করে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে হরিণগুলোর দানাদার খাদ্য দেয়ার জন্য যে বরাদ্দ পাওয়া যায়, তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় দানাদার খাদ্য দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুনো শাপলা হরিণের সবচেয়ে প্রিয় এবং পুষ্টিকর খাদ্য। কিন্তু রামসাগরে জন্ম নেয়া বুনো শাপলা মাছ ধরার জন্য পরিষ্কার করায় হরিণগুলোর খাদ্য বন্ধ হয়ে গেছে।মন্ত্রণালয় থেকে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় রামসাগর চিড়িয়াখানায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের দেয়া বাদাম, বুট এবং গাছের লতাপাতা এখন হরিণের বেঁচে থাকার প্রধান উৎস।এ ব্যাপারে বন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনে বিস্তারিত জানাতে চাননি তিনি। এমদাদুল হক মিলন/এএম/এমএস