সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হাইস্কুল এলাকার অমর আলীর মেয়ে আনোয়ারা খাতুন (২৬)। দালালের খপ্পরে পড়ে গত বছরের মে মাসে পাসপোর্ট করেন। নিজের পায়ে দাঁড়াতে দেশের বাইরে গিয়ে উপার্জন করাই ছিল লক্ষ্য।এরপর আনোয়ারাকে প্রলোভন দেখিয়ে কিছু অর্থ হাতিয়ে নেয় দালালরা। কয়েকদিন পর তিন মাসের ভিসায় সৌদি আরবে পাঠিয়ে দেন তারা।সৌদি আরবে যেতে না যেতে আনোয়ারার ওপর শুরু হয় অত্যাচার ও যৌন নির্যাতন। এসব ঘটনার বর্ণনা করে আনোয়ারা খাতুনের মা নাছিমা বেগম বলেন, আনোয়ারাকে একটা মোবাইল দিয়েছে ওরা। (+৯৬৬৫৩২১২৯৯৮৯) নম্বরে টাকা থাকে না। যে কারণে আনোয়ারা কল করতে পারে না। আমরা কেউ কল দিলে কথা বলে। পাঁচতলা একটি বাড়ির উপরের ঘরে আটকে রাখা হয়েছে বলে আনোয়ারা ফোনে জানিয়েছে।মা নাছিমা বেগম আরও বলেন, আমার মেয়ের ওপর প্রতিদিন নির্যাতন চালানো হয়। কথা না শুনলে মারধর করা হয়। গত সাত মাস এভাবে তার ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে ওরা। চোখ বেঁধে নিয়ে গিয়েছিল ওখানে। ঠিকানাও বলতে পারে না সে।সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের হাতে-পায়ে ধরে নিজের মেয়েকে বাঁচানোর জন্য আকুতি জানাচ্ছেন মা নাছিমা বেগম। এজন্য তিনি সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ে দালালের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে এসব আমাদের ধারণা ছিল না। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরের আব্দুর রহিম, তারালির সোনা শেখ, যশোরের ঝিকরগাছার আব্দুল গনি, শহরের ভিসা এজেন্ট সুভাষ চৌধুরী ও ঢাকার নুর ইসলাম নামে এক লোক আনোয়ারাকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছে।এ বিষয়ে কলারোয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদুল হক শেখ জাগো নিউজকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন। আমি নিজেও মেয়েটির সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেছি। তবে মেয়েটি সৌদি আরবের কোন এলাকায় রয়েছে সেটি বলতে পারছে না। সেখানে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে জেনেছি। বেসরকারি সংস্থা যশোর রাইটস’র মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।আকরামুল ইসলাম/এএম/এমএস