পাবনার সাঁথিয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তপন হায়দার সানসহ (৫০) দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এসময় আরো সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।এলাকাবাসী জানায়, বেলা সাড়ে ১১টায় সাঁথিয়া আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ পৌরবাসীর ব্যানারে মেয়র মিরাজুল ইসলাম প্রামাণিকের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে পুলিশ পাহারায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। একই সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তপন হায়দার সানের নেতৃত্বে অপর একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হলে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপের একপর্যায়ে গুলাগুলি বিনিময় হয়।সংঘর্ষের একপর্যায়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তপন হায়দার সান (৫০) ও ছেচানিয়া গ্রামের আ. সবুরের স্ত্রী মারুফা খাতুন (২৩) গুলিবিদ্ধ হন।এছাড়া ইটপাটকেল নিক্ষেপে খলিসাখালী গ্রামের মহরম (৪৫), তেঘড়ি গ্রামের মানিক মিয়া (২৮), বোয়াইলমারী গ্রামের গাজিউর রহমান (৪৫), এসআই সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল সোহাগ মাহমুদ আহত হয়। আহতদের সাঁথিয়া ও বেড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ মারুফা খাতুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রথমে লঠিচার্জ করে। এরপর ১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও ১৮ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাঁথিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হাই জানান, সাঁথিয়া পৌরসভার মেয়র মিরাজুল ইসলাম প্রামানিকের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা করার প্রতিবাদে পৌরবাসীর ব্যানারে শান্তিপূর্ণ একটি মিছিল বের করা হয়। এসময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তার লোকজন আমাদের মিছিলের ওপর হামলা চালায়। অপরদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তপন হায়দার সান জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর আমার ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে ৩ দিন আগে নেয়া কর্মসূচি মোতাবেক আজকে (রবিবার) বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এই কর্মসূচিকে পণ্ডু করার জন্য ওসির ইন্ধনে পৌরবাসীর ব্যানারে বের হওয়া একটি গ্রুপ মিছিলে হামলা চালায়। সাঁথিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।একে জামান/এআরএ/জেআইএম