দেশজুড়ে

‘মৃত’ নবজাতক পাঁচ ঘণ্টা পর জীবিত

শরীয়তপুরে ‘মৃত’ ঘোষণার পাঁচ ঘণ্টা পর নবজাতক নড়ে উঠে জানান দিয়েছে সে জীবিত। রোববার রাতে শরীয়তপুর পৌরসভার চৌরঙ্গী সংলগ্ন সেফ ডেলেভারি সেন্টার অ্যান্ড সার্জিক্যাল হোমে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার দশরশ্মি গ্রামের সোহেল বেপারীর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শিখা আক্তারকে (১৯) রোববার রাতে সেফ ডেলেভারি সেন্টার অ্যান্ড সার্জিক্যাল হোমে ভর্তি করা হয়। এরপর রাত ১টার দিকে শিখার প্রসবের ব্যাথা উঠলে ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে নার্সদের তত্ত্বাবধায়নে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। এসময় নার্সরা শিখার কন্যা শিশুকে মৃত্যু বলে ঘোষণা দেন।সেখানে শিখা আক্তারের অবস্থার অবনতি হলে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। অন্যদিকে, নবজাতক শিশুটিকে সেফ ডেলেভারি সেন্টার অ্যান্ড সার্জিক্যাল হোমে রেখে দেয়া হয়। পাঁচ ঘণ্টা পর সোমবার সকাল ৬টার দিকে ক্লিনিকের নার্স লাভলী নবজাতকের নানী হাওয়া বিবিকে শিশুকে নিয়ে যেতে চাপ দেয়। পরে হাওয়া বিবি শিশুটিকে নিতে গিয়ে দেখেন সে হাত-পা নাড়াচ্ছে। এরপর নবজাতককে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।নবজাতকের বাবা সোহেল বেপারী জানান, আমার জীবিত মেয়েকে সেফ ডেলেভারি সেন্টার অ্যান্ড সার্জিক্যাল হোমের নার্সরা মৃত্যু বলে পাঁচ ঘণ্টা কাটিয়ে দিয়েছে। এখন আমার মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মেয়ের এই অবস্থার জন্য এই ক্লিনিকের নার্সরা দায়ী। সেফ ডেলেভারি সেন্টার অ্যান্ড সার্জিক্যাল হোমের নার্স লাভলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।এ ব্যাপারে সেফ ডেলেভারি সেন্টার অ্যান্ড সার্জিক্যাল হোমের কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।জেলা সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান বলেন, সকালে এক নবজাতককে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। নবজাতকটি পরিপূর্ণ নয়। বাহিরের কোনো একটি ক্লিনিকে নবজাতকটি ভর্তি ছিল। নবজাতকটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তদন্ত কমিটি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  ছগির হোসেন/এআরএ/পিআর