দেশজুড়ে

দিনাজপুরে লোকসানে আলুচাষিরা

দিনাজপুরে লোকসানের মুখে পড়েছে আলুচাষিরা। শ্রমের  কোনো মূল্য পাচ্ছেন না তারা। তার উপর প্রতি একরে লোকসান গুণতে হচ্ছে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার টাকা।মাঠে প্রকার ভেদে পাঁচ টাকা থেকে সর্বোচ্চ সাত টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করছেন কৃষকরা। এরপরও ক্রেতা মিলছে না মাঠে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন আলুচাষিরা।কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বছর ঠাকুরগাঁও জেলায় ৪৩ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় এবং ২৩ হাজার  হেক্টর জমিতে। আলুর চাষ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পাঁচ হাজার ৯২৪ হেক্টর বেশি জমিতে। আলুর আবাদও হয়েছে ভাল।মৌসুমের শুরুতে বাজারে প্রতি কেজি আলু ৩০-৩২ টাকা দরে বিক্রি হয়। ক্রমান্বয়ে আলুর দাম কমতে কমতে ৫-৭ টাকায় পৌঁছায়। কিন্তু গত এক সপ্তাহ থেকে সে দাম আরও কমে গিয়ে ৪-৬ টাকায় এসে ঠেকেছে।কাহারোল উপজেলার বলরাম গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ এবং কান্তনগর এলাকার রহিদুল ইসলাম জানান, তারা এবার নিয়ে পাঁচ একর জমিতে আলু আবাদ করেন। উৎপাদনও হয়েছে বেশ ভাল। কিন্তু আলু হতে দেরি হওয়ায় তারা এখন মহা বিপদে পড়েছেন। বাজারে আলুর দাম না থাকায় না পারছেন আলু মজুদ করতে। আবার না পারছেন আলু কম দামে বিক্রি করতে।তারা জানান, প্রতি একরে আলু চাষ করতে খরচ হয়েছে সাড়ে ৬১ হাজার টাকা। আর আলু বিক্রি করে তারা পাচ্ছেন সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা। তাদেরকে একরে লোকসান গুণতে হচ্ছে সাড়ে ১১ হাজার টাকা। আবার তাদের শ্রমের কোনো মূল্য নেই।এ বিষয়ে জেলা  কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ গোলাম মোস্তফা জানান, দিনাজপুর জেলায় গেনলা, কার্ডিলাল, ডায়মন্ড, কারেজ, ইস্তারিক্স ও দেশি (বগুড়া) জাতের আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদন একই সময় হওয়ায় আলুর দাম কিছুটা কমেছে। তবে দিনাজপুরে একটি সরকারিসহ ১১ টি হিমাগার রয়েছে। এতে প্রচুর আলু জমুদ করার সুযোগ রয়েছে।  এমদাদুল হক মিলন/আরএআর/এমএস