প্রথমবারের মতো সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিচ কার্নিভাল ২০১৭। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের এই উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা সমাগত হয়েছিল।বর্তমান সরকারের মেয়াদে কুয়াকাটাকে আধুনিক রূপ দিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত করতেই এই কার্নিভালের আয়োজন বলে জানান আয়োজকরা। কার্নিভালে প্রতিদিন সন্ধ্যায় পর্যটক ও অতিথীদের জন্য ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন খেলাধুলা। দেখা গেছে, নীল আকাশে উড়ছে রং বেরঙের ঘুড়ি, কেউবা মেতে উঠেছেন পরিবার পরিজন নিয়ে বিচ ফুটবল, ক্রিকেট, হা-ডু-ডু, দাড়িয়াবান্ধা কিংবা ভলিবল খেলায়। অপরদিকে রাতে কেউবা পছন্দ মতো করছেন বার-বি-কিউ পার্টি। কুয়াকাটায় গত তিনদিন ছিল এমন মহা আয়োজন। বিচ কার্নিভালের এ আয়োজনে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাখাইন জনগোষ্ঠীর স্থানীয় শিল্পীদের নাচ গানে মুগ্ধ হয়েছেন কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা। এছাড়া বাড়তি আয়োজনের মধ্যে ছিল দেশের খ্যাতনাম সব শিল্পীদের পরিবেশনা। রাতের আকাশে উড়ছে ফানুস, লেজার শো এর মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নের বিভিন্ন বার্তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে পর্যটকদের কাছে।রাজশাহী থেকে কুয়াকাটায় ঘুরতে এসেছেন মিসেস সোলাইমান। তিনি জানালেন, সরকারের এমন উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়।এসময় কথা হয় ছোট্ট সেনামনি রাইসার সঙ্গে। সে জানায়, বাবা-মা, আপু, ভাইয়া সবার সঙ্গে কুয়াকাটা ঘুরতে এসেছে। বিচে অনেকে খেলা করছে তা দেখে অনেক মজা হচ্ছে। দি পটুয়াখালী চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রথমবারের মতো সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বিচ কার্নিভাল ২০১৭। এমন আয়োজনে কিছুটা হলেও বিশ্বের দরবারে কুয়াকাটার পরিচিতি বাড়ছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী নেতারা। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই কুয়াকাটার গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার কুয়াকাটাকে বিশ্ব মানের পর্যটন নগরী হিসেবে তৈরি করতে ইতোমধ্যে মাস্টারপ্লান তৈরির কাজ শেষ করছে।উল্লেখ্য, শনিবার সকালে শুরু হওয়া বিচ কার্নিভালের সোমবার রাতে আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে।মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/এমএস