দেশজুড়ে

বিদ্যালয়ে লটারির নামে চলছে টিকিট বিক্রির ব্যবসা

নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলা সদরের ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে র‌্যাফেল ড্রয়ের নামে চলছে লটারির টিকিট বিক্রির জমজমাট ব্যবসা। বিদ্যালয়ের ১১শ শিক্ষার্থীর প্রতিজন শিক্ষার্থীকে ২০ টাকা মূল্যের ২টি করে টিকিট কেনা বাধ্যতামূলক করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে লটারি আয়োজনের বিষয়টিকে বিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীণ বিষয় বলে দাবি করেছে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি।জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ে আগামী ২১ জানুয়ারি শনিবার বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে র‌্যাফেল ড্র এর নামে লটারির টিকিট বিক্রির আয়োজন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যালয়ের প্রতিজন শিক্ষার্থীকে ২টি করে লটারির টিকিট কেনা বাধ্যতামূলক। যারা টিকিট কিনছে না তাদেরকে নানা ভাবে ধমক দিচ্ছেন শ্রেণি শিক্ষকেরা। গত কয়েক দিন ধরে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা শ্রেণিকক্ষে গিয়ে কে লটারির টিকিট কিনেছে আর কে কেনেনি তা নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবকের অভিযোগ, তাদের সন্তানকে টিকিট কিনতে বাধ্য করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, শ্রেণি শিক্ষকেরা ক্লাসে গিয়ে প্রথমেই জানতে চান কে টিকিট কিনেছে আর কে কিনছে না। যারা টিকিট কিনতে রাজী নয় তাদেরকে টিকিট কিনতে বাধ্য করছেন। এ ব্যাপারে ডোমার বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম লটারির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কাউকে টিকিট কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে না। এর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ছাত্রদের জন্যই পুরস্কার কেনা হবে। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আখতারুজ্জামান সুমন জানান, লটারি নয় এটি র‌্যাফেল ড্র। আর বিষয়টি বিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার। ডোমার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাকেরিনা বেগম র‌্যাফেল ড্র বা লটারি যেটাই হোক তাকে জুয়া আখ্যায়িত করে এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।                                                                                                                                                             জাহেদুল ইসলাম/এফএ/এমএস