দেশজুড়ে

মেহেরপুরে আবারও ব্লাস্ট, ছড়াতে পারে ভারত-নেপালেও

চলতি বছরে আবারও হুইট ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে মেহেরপুরের গমক্ষেত। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গম চাষ করে বিপাকে রয়েছেন চাষিরা। বিভিন্ন প্রকার ছাত্রকনাশক প্রয়োগ করেও কোনো ফল পাচ্ছেন না তারা। আমেরিকান বিজ্ঞানী তিমথি জে ক্রুপনিকের মতে, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে রোগটি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ভারত, নেপাল, ভূটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বীজ পরিশোধন না করা ও আগাম বীজ বপনের কারণে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের। সমস্যা সমাধানে দেশে নতুন জাতের বীজ উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তারা।গেল বছরে হুইট ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয় মেহেরপুরের গমক্ষেত। ফলে কৃষকদের ঘাম ঝরানো উৎপাদিত ফসল পুড়িয়ে ফেলতে হয়। বীজবাহিত এ রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে চলতি বছরে গম আবাদে নিরুৎসাহিত করে কৃষি বিভাগ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গম চাষ করেন চাষিরা। গমের শিষ বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হুইট ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে গমক্ষেত। এদিকে হঠাৎ করে গমক্ষেত আক্রান্ত হওয়ার কারণে দিশেহারা কৃষকেরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসেব মতে চলতি বছরে জেলায় প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে।সদর উপজেলার গোভিপুর গ্রামের গম চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, গেল বছর ৪ বিঘা জমিতে গম চাষ করেছিলেন। কিন্ত হুইট ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় জমির গম জমিতেই পুড়িয়ে ফেলতে হয়। চলতি বছরে তিনি ৪ বিঘা জমিতে গমের আবাদ করেছেন। কিন্তু শিষ বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাদা হয়ে যাচ্ছে। ভিতরে দানা বলতে কিছুই থাকছে না। বিভিন্ন ধরনের ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। গেল বছরের মত এবারও লোকসানে গুনতে হবে।গাংনী উপজেলার তেরাইল গ্রামের গম চাষি আশরাফুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগ থেকে গম চাষ করতে নিষেধ করা হয়। এমনকি মাইকিংও কার হয়। কিন্তু তা অমান্য করে খাবারের জন্য এবার এক বিঘা জমিতে গমের আবাদ করেছিলেন। নিজের গমের এখনও শিষ বের হয়নি। কিন্তু পাশের জমির গম নষ্ট হওয়ায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন তার মত অনেক চাষি। বিঘা প্রতি জমিতে গম চাষে খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। দিনাজপুর গম গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার মালাকার জানান, ব্লাস্ট রোগটি বীজবাহিত হলেও ঘাস জাতীয় আগাছার মধ্যে থাকা জীবানু ও আবহাওয়া তারতম্যেও কারণে গমক্ষেত আক্রান্ত হতে পারে। বাতাসের মাধ্যমে আক্রান্ত জমির ক্ষেত থেকে অন্য ক্ষেতেও ছড়িয়ে পাদার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে চলতি বছরসহ আগামী দুই বছর গম চাষ থেকে কৃষকদের নিরুতসাহিত করা হয়। আগাম গম চাষের কারণে কিছু কিছু জেলায় এ রোগ দেখা দিয়েছে। এছাড়াও ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত ৯টি জেলা বাদে অন্য জেলাগুলোতে গমের বীজ তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু আক্রান্ত এলাকায় কোনো বীজ তৈরি ও সরবরাহ করা হয়নি। কৃষকরা আক্রান্ত বীজ থেকে বীজ তৈরি করার কারণে আবারও গমক্ষেতে এ রোগ দেখা দিয়েছে। একই দাবি বাংলাদেশ গম গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক নরেশ চন্দ্র দেব বার্মার।ঢাকা খামার বাড়ির উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং এর পরিচালক গোলাম ফারুক জানান, ব্লাস্ট রোগ থেকে বাঁচতে গমের শিষ বের হওয়ার আগেই ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে। কোনোক্রমেই আক্রান্ত জমির গম বীজ হিসেব ব্যবহার করা যাবে না। গেল বছরে গমক্ষেত ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় গবেষণা শুরু হয়েছে। প্রতিরোধী জাতের বীজ উদ্ভাবনের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান করা হবে। ইতোমধ্যে গবেষণায় বারি গম-৩০ ও বিএ ডব্লিউ-১২০২ জাতের মধ্যে আক্রমণের মত্রা কম পাওয়া গেছে। এ জাতগুলো অনুমদনের জন্য সুপারিশ করা হবে। অনুমোদন পেলেই এ জাতগুলো উম্মুক্ত করে আরোও প্রতিরোধী জাত তৈরি করা হবে।   পরিদর্শন টিমের আরেক সদস্য আমেরিকান বিজ্ঞানী তিমথি জে ক্রুপনিকের মতে, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে রোগটি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে যেতে পারে। তবে ভয়ের কিছু নেই, এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। আসিফ ইকবাল/এফএ/এমএস