পুলিশের হয়রানি-চাঁদাবাজি বন্ধ ও ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের বাম্পার-হুক অপসারণ সিদ্ধান্ত বাতিলসহ ১২ দফা দাবিতে মেহেরপুরসহ ২১ জেলায় পণ্যবাহী যানবাহনের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে।২১ জেলা পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে সোমবার সকাল ৬টা থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়। ধর্মঘটে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সব জেলায় মালামাল পরিবহন বন্ধ রয়েছে।এছাড়া খাদ্য ও পচনশীল পণ্য ছাড়া কোনো পণ্যই আাস যাওয়া করতে পারছে না। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন তেল পাম্প মালিক ও ব্যবসায়ীরা। পেট্রাল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি নূর হোসেন আঙ্গুর জানান, কোন পণ্যবাহী ট্রাক না আসায় তেল আসতে পারছে না জেলার পাম্পগুলোতে। ফলে তেলের মজুদও শেষ হয়ে গেছে। ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে আগামীকাল বুধবার থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। চাষিদেরর তেল সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। চাহিদার থেকে কম সরবরাহ করে ক্রেতাদের বিদায় করতে হচ্ছে। বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান দিপু জানান, সোমবার সকাল থেকে পণ্যবাহী পরিবহন বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে মালামাল নিয়ে আসতে পারছেন না। বুকিং নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিগুলো। এভাবে চলতে থাকলে বিপাকে পড়তে হবে তাদের।এদিকে কৃষকরা জানায়, এখন ধান লাগানোর মৌসুম। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ৫০০ টাকার তেল কিনতে এসে পাচ্ছেন ২০০ টাকার। ধর্মঘট প্রত্যাহার না হলে ধান চাষে বিঘ্ন ঘটবে। এ বিষয়ে জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রানা জানান, বিভিন্ন সময়ে স্কেলে বাড়তি টাকা আদায়, পুলিশের হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ ১২ দাবিতে এ ধর্মঘট চলছে। সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। তবে আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসবে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বৈঠক থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।আসিফ ইকবাল/এএম/এমএস