অবশেষে কিশোরগঞ্জ বাণিজ্যিক ভবনের ৫ তলার ছাদে উঠে আত্মহত্যার হুমকি দেয়া এবং প্রশাসনকে অস্থির করে তোলা সেই যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরপর তাকে পরিবারের কাছে তুলে দেন প্রশাসন। ওই যুবকের নাম সুমন মিয়া (১৭)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার শম্ভুগঞ্জ উপজেলা সদরের আলালপুর গ্রামের রুকন উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে গত মঙ্গলবার রাতে কিশোরগঞ্জ শহরের একটি বহুতল ভবনের ছাদ থেকে ওই যুবককে আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয়।কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার পর আজ দুপুরে তাকে পরিবারের কাছে তুলে দেয়া হয়েছে। হাসপাতালে সুমনকে তার বাবা, ছোট ভাই ও মামার হাতে তুলে দেন কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের এসআই মো. সালাউদ্দিন।সুমনের বাবা রুকন উদ্দিন জানান, তার ছেলে অনেক দিন ধরে মানসিক প্রতিবন্ধী। দুই বছর আগে তাকে কিছুদিন পাবনার মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। কিছুটা ভালো হলে তাকে বাড়িতে আনা হয়।তিনি আরও জানান, গত শুক্রবার হঠাৎ করে তার ছেলে সুমন অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সালাহ উদ্দিন জানান, ৫ তলা ভবনের ছাদ থেকে উদ্ধারের পর তাকে আহতাবস্থায় কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুইজন পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক তার পাশে ছিল। তিনি আরও জানান, জ্ঞান ফেরার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাগল বলে মনে হয়। সে তার নাম ঠিকানা বলতে পারছিল না। তাকে কাপড় পরিয়ে দিলেও বার বার খোলে ফেলার চেষ্টা করে। একবার সে গরুর মাংস দিয়ে ভাত খেতে চাইলে তা দেয়া হয়। এদিকে জাগো নিউজে খবর প্রকাশের পর প্রতিবেশীর মাধ্যমে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে কিশোরগঞ্জ আসেন সুমনের বাবা রুকন উদ্দিন, ছেলে এরশাদ আলী ও মামা হারুনর রশীদ। এ সময় সুমন মারমুখী হয়ে ওঠায় পুলিশের সহযোগিতায় হাত বেঁধে স্বজনদের সঙ্গে সিএনজিতে তুলে দেয়া হয়। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ শহরের রথখোলা এলাকায় মাধবী প্লাজার পাঁচতলা ভবনের ছাদে আত্মহত্যার জন্য ওঠেন ওই যুবক। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ বাহিনী গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।নূর মোহাম্মদ/এএম/জেআইএম