দেশজুড়ে

কুড়িগ্রামে জমাট বেঁধে পড়ে আছে ৪শ টন সার

উত্তরের সীমান্ত ঘেষা কুড়িগ্রাম জেলার ৯ উপজেলায় ইরি-বোরো উৎপাদন নিয়ে শঙ্কিত কৃষকরা। কুড়িগ্রাম বাফার গুদামে পাথরের মত শক্ত হয়ে পড়ে আছে হাজার হাজার বস্তা ইউরিয়া সার। জমাট ভেঙে রি-প্যাকিং করা সার নিয়ে কৃষকের মাঝে ভ্রান্ত ধারণার কারণে চাহিদা নেই। ফলে ডিলাররাও এসব সার নিতে গড়িমশি করছে। কুড়িগ্রাম বাফার গুদামে ২ হাজার মে. টন ধারণ ক্ষমতা থাকলে বর্তমানে সার মজুদ রয়েছে ৭ হাজার ৫৪৪ মে. টন। এগুলো খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে মাসের পর মাস। এ সারের গুণাগুণ নিয়ে প্রশ্ন সবার। চীন থেকে আমদানি করা এ সার জমাট বাঁধায় রি-প্যাকিং করার খরচও বাড়ছে সরকারের। বিসিআইসির কুড়িগ্রাম ইনচার্জ মো. মোস্তফা কামাল জানান, কুড়িগ্রাম বাফার গুদামের ধারণ ক্ষমতা ২ হাজার মে. টন সার। এখন গুদামের ভিতর মজুদ আছে ৪ হাজার ২০০ মে.টন এবং বাইরে ফাঁকা স্থানে স্তুপ করে রাখা হয়েছে আরো ৩ হাজার ৩৪৪ মে. টন সার। বাইরে রাখা সারের প্রায় ৪০০ মে. টন জমাট বেঁধে (কেক) শক্ত হয়ে গেছে। গুদামের ভিতরে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুন সার রাখায় সেখানেও জমাট বাঁধার সম্ভাবনা রয়েছে। জমাট বাঁধা সার নিজ খরচে ভেঙে রি-প্যাকিং করে সরবরাহ করা হয়। আর ঠিকাদার সরবরাহের সময় জমাট বাঁধা সার নিয়ে আসলে তারা নিজ খরচে রি-প্যাকিং করে দেয়। তিনি দাবি করেন, সারে পানি না পড়লে কোনো ভাবেই গুণাগুণ নষ্ট হয় না। কাজেই সারের গুণাগুণ নিয়ে কৃষকদের ধারণা ভ্রান্ত। শুধু তাই নয় আমরা ওজনে কম ও ছেড়া ফাঁটা ব্যাগও রি-প্যাকিং করে দিচ্ছি। ডিজিটাল বাটখারার মাধ্যমে সঠিক ওজন নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কৃষি বিভাগের দেয়া চাহিদা মোতাবেক সরকার সার সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু কুড়িগ্রামের ডিলাররা সময় মতো সার উত্তোলন না করায় সারজটের সৃষ্টি হয়েছে। জেলায় জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ৬ মাসে বাফার মাধ্যমে ইউরিয়ার চাহিদা ছিল ২২ হাজার ৪৩৪ মে. টন। এখন মজুদ আছে ৭ হাজার ৫৪৪ মে. টন। অর্থাৎ আরো ১৪ হাজার ৮৯১ মে.টন সার গুদামে ঢুকবে পর্যায়ক্রমে। চাহিদা মোতাবেক জানুয়ারি মাসে ডিলারদের সার উত্তোলন করার কথা ৫ হাজার ৫০০ মে. টন। অথচ এখন পর্যন্ত উত্তোলন করেছে মাত্র এক হাজার ৮৮ মে. টন সার। বেলগাছা ইউনিয়নের কৃষক উমর ফারুক, আব্দুল জলিল, রফিকুল এবং নাজিরা গ্রামের লাল মিয়া, জোবেদ আলী ও আবুতালেব জানান, জমাট বাঁধা সার গুড়ো করে তা আবার নতুন প্যাকেটে করে সরবরাহ করছে। এ সারের গুণাগুণ ও মান কম বলে তাদের বিশ্বাস। তাদের অভিজ্ঞতা এরকম সার দিয়ে ভাল ফলন পাওয়া যায় না। তাই তারা সরকারের এ ভুর্তুকির সার নিয়ে চরম উৎকণ্ঠার কথা জানান।  কুড়িগ্রাম জেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি সামছুল ইসলাম মন্ডল জানান, জেলায় বিসিআইসি’র সার ডিলার ৯৪ জন। কৃষকের চাহিদা বুঝে সার উত্তোলন ও সরবরাহ করা হচ্ছে। চীন থেকে আমদানি করা সারের নানা অভিযোগ। জমাট বাঁধা, কালো হওয়া এবং পাথরের মত শক্ত হওয়া। এ কারণে চীন থেকে আমদানি করা সার কৃষরা নিতে চায় না। কুড়িগ্রাম অঞ্চলে কৃষকের কাছে যমুনা ও কাফকো ইউরিয়া সারের চাহিদা বেশি। কৃষকরা সচেতন হওয়ায় ক্রমেই ইউরিয়া সারের চাহিদা কমছে। বাড়ছে নন ইউরিয়া সারের চাহিদা। শুধু মাত্র সার ব্যবহারের পরিবর্তন এনে কৃষকরা ফসল উৎপানে সাফল্য পাচ্ছে। ফলে খাদ্য ঘাটতি কমছে। ১৪-১৫ অর্থবছরে জেলায় ইউরিয়ার চাহিদা দেয়া হয় ৫৫ হাজার মে.টন। ১৫-১৬ অর্থবছরে দেয়া হয় ৫২ হাজার মে.টন। আর চলতি ১৬-১৭ অর্থবছরে ইউরিয়া সারের চাহিদা দেয়া হয়েছে ৪৫ হাজার মে.টন। অর্থাৎ তিন অর্থবছরে ইউরিয়া সারের চাহিদা কমেছে ১০ হাজার মে.টন। কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মকবুল হোসেন জানান, নন ইউরিয়া ব্যবহারের ফলে ইউরিয়া সারের উপর চাপ কমছে। বিশেষ করে ডিএপি (ডাই এমোনিয়াম ফসফেট), ভার্মি কম্পোস্ট, জৈবসার ব্যবহারের ফলে ইউরিয়া সারের ব্যবহার কমে গেছে। চীন থেকে সরকারিভাবে আমদানি করা ইউরিয়া সারের মধ্যে যেগুলো জমাট বেঁধেছে, সেগুলোর গুণগত মানের কোনো পার্থক্য ঘটবে না বলেও তিনি জানান।নাজমুল হোসেন/এফএ/এমএস