পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় যুবলীগকর্মী লিটন পন্ডিত হত্যা মামলার প্রধান আসামি মঠবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌসকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এদিকে পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌসের মুক্তির দাবিতে মঠবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ চলাকালে থানা পুলিশ লাঠিচার্জ করে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।রোববার মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক বেল্লাল হোসেন মেয়র রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌসকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।এদিকে পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌস আদালতে হাজির হওয়ার খবর পেয়ে তার সমর্থক আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ আদালত এলাকায় অবস্থান নেয়। অপরদিকে লিটন পন্ডিত হত্যার বিচার দাবিতে উপজেলা চেয়ারমান মো. আশরাফুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অপর গ্রুপ রোববার মানববন্ধন কর্মসূচি দিলেও তারা মাঠে নামেনি। এদিকে পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌসের মুক্তির দাবিতে মঠবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলটি পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনার চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ চলাকালে থানা পুলিশ লাঠিচার্জ করে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের লাঠির আঘাতে ঢাকা উত্তর ছাত্রলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম শামীমসহ কয়েকজন আহত হন।দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসসাদিকুজ্জামান বলেন, একটি গ্রুপ পৌরসভার সম্মুখে জড়ো হয়ে সমাবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৫ জুলাই মঠবাড়িয়া পৌর শহরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবলীগ কর্মী ইলিয়াস হোসেন লিটন পন্ডিত নিহত হন। এ ঘটনায় লিটন পন্ডিতের ভাই জাকির পন্ডিত বাদী হয়ে পরের দিন ২৬ জুলাই মঠবাড়িয়া থানায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র রফিউদ্দিন ফেরদৌসসহ ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পৌর মেয়র উচ্চ আদালতের আট সপ্তাহ জামিন শেষে আদালতে হাজির না হয়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। এ মামলায় এজাহারভুক্ত ৩ নং আসামি কালাম মোল্লা, ৪ নং আসামি বাবু শরীফ বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন। এছাড়া মামলার ২ নং আসামি ইউপি চেয়ারম্যান নাসির হাওলাদার ও ১৪ নং আসামি ইউপি সদস্য জুয়েল পলাতক রয়েছেন।হাসান মামুন/এএম/জেআইএম