দেশজুড়ে

হাসপাতাল ভবনে ফাটল, সরিয়ে নেয়া হলো রোগীদের

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল ভবনে হঠাৎ ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে গোটা হাসপাতাল ভবনটিতে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। আতংক ছড়িয়েছে লোকজনের মাঝে। দুর্ঘটনার আশংকায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে ঝুঁকির মধ্যে পড়া রোগীদের। ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন দোতলা ভবনের ওপর নির্মিত হচ্ছে বর্ধিত তৃতীয় তলা। এতে নতুন তলা নির্মাণের চাপ সইতে না পেরে ভবনটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জানা যায়, আশির দশকের দিকে নির্মিত ৫০ শয্যার রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল ভবনটি দোতলা করে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয় ১৯৮৩ সালে। এরপর আর ভবনটির কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। এর মধ্যে ২০০৫ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ইউএনডিপির আর্থ-কোয়াক রিস্ক রিডাকশন প্রোগ্রামের আওতায় পরিচালিত এক জরিপে এ জেনারেল হাসপাতাল ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একই সালে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে রাঙামাটি পৌরসভা। এরপর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ওপর জেলা পরিষদ কীভাবে নতুন তৃতীয় তলা নির্মাণ কাজ হাতে নিয়েছে, তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।  সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভবনটিতে ফাটল দেখা যায় শনিবার। হাসপাতালে যাওয়া লোকজন দেখতে পায়, ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্থাপিত শিশু ও মহিলা ওয়ার্ডের ঠিক নিচে ভিম ও আস্তরের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরেছে। এ খবর শুনে দেখতে ছুটে যান সিভিল সার্জন ডা. স্নেহ কান্তি চাকমা ও রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. টিপু সুলতানসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। দেখে চিহ্নিত করা হয়, ভবনের দ্বিতীয় তলার শিশু ও মহিলা ওয়ার্ডের ওপর নতুন তৃতীয় তলা নির্মাণের ভার সইতে না পারায় পুরাতন ভবনের নিচে ভিমে এবং আস্তরে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় দুর্ঘটনার আশংকায় তাৎক্ষণিক ওয়ার্ডটিতে থাকা প্রায় অর্ধ-শতাধিক রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে পাশের ওয়ার্ডে সরিয়ে নেয়া হয়।রোববার সকালে হাসপাতাল গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলার শিশু ও মহিলা ওয়ার্ডটি ফাঁকা পড়ে আছে। রোগীদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে পাশের পুরুষ ও সংক্রমিত রোগীর ওয়ার্ডে। এমন পরিস্থিতিতে আতংক ছড়িয়েছে রোগী ও তাদের স্বজনসহ লোকজনের মাঝে। রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. স্নেহ কান্তি চাকমা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা থেকে রক্ষার জন্য এবং ভবনটির জরুরি কিছু সংস্কার কাজের প্রয়োজনে রোগীদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। প্রকৌশলীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওবায়দুর রহমান বলেন, শিশু ও মহিলা ওয়ার্ডের ওপর তৃতীয় তলা নির্মাণের কারণে ওই অংশের নিচে ফাটল দেখা দেয়। এ কারণে জরুরি সভা করে প্রকৌশলীদের পরামর্শে রোগীদের অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।  আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মংক্যচিং মারমা সাগর বলেন, ২৫ জানুয়ারি থেকে হাসপাতাল ভবনটির ভিম ও আস্তরে ফাটল দেখা দেয়। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার আশংকায় শিশু ও মহিলা ওয়ার্ডের রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, হাসপাতাল ভবনের তৃতীয় তলায় অপরিকল্পিতভারে আরেক তলা নির্মাণের ফলে অতিরিক্ত চাপের ভারসাম্য হারিয়ে এ ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া হাসাপাতালের দোতলা ভবনটিকে ২০০৫ সালে ঝুকিঁপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে রাঙ্গামাটি পৌরসভা। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও রাঙামাটি জেলা পরিষদ গত বছরের মাঝামাঝি হাসপাতাল সম্প্রসারণ করতে ভবনের তৃতীয় তলায় অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ কাজ হাতে নেয়। বর্তমানে নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর মধ্যেই অতিরিক্ত চাপে ভারসাম্য হারিয়ে হাসপাতাল ভবনে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। সুশীল প্রসাদ চাকমা/এএম/পিআর