দেশজুড়ে

চরভদ্রাসনে পেয়াজের বাম্পার ফলনেও হতাশ কৃষক

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় পেয়াজের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশ কৃষক। এছাড়া অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এ বছর চরভদ্রাসন উপজেলায় মুড়িকাঠা পেয়াজের আবাদ ও পেয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রতি বছরের চাইতে বেশি হয়েছে বলে জানায় উপজেলা কৃষি অফিস।চলতি মৌসুমের শুরু থেকে পেয়াজের বাজার দর কমে যাওয়ায় উপজেলার চাষিদের পেয়াজ বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। সোমবার বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রতিমণ মুড়িকাঠা পেয়াজ ৫২০ থেকে ৫৮০ টাকা দরে পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এই উপজেলা সদরে সোমবার ও শুক্রবার হাট বসে। আর এ হাটে আসা পেয়াজ ঢাকা, গাজীপুর ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায় বলে জানায় স্থানীয় বেপারীরা।ডাঙ্গী গ্রামের কৃষক মো. ইউসুফ হোসেন জানায়, ৫ বিঘা জমিতে পেয়াজ লাগিয়েছে। বিঘা প্রতি তার খরচ পড়বে ৪০ হাজার টাকা। পেয়াজের বাজার দর কম থাকায় তিনি এখনও পেয়াজ উঠান নি। বাজার দর না বাড়লে তার প্রায় এক লক্ষ টাকার লোকসান হবে। আমাদের দেশের বাজারে বিদেশি পেয়াজ আসায় পেয়াজের দাম কমে গেছে বলে দাবি করেন কৃষক। একই গ্রামের ইউসুফ হাওলাদার ও আবুল কালাম জানান,  লাভের আসায় এবার পেয়াজ লাগিয়েছিলাম। এ বছর বিঘা প্রতি ৬০/৭০ মণ পিয়াজ হলেও মৌসুমের শুরু থেকেই পেয়াজের বাজারে দাম কম থাকায় অর্থনৈতিকভাবে লোকসানের শিকার হচ্ছে কৃষক। পেয়াজের ফলন ভালো হলেও শুরু থেকেই দাম কম হওয়া, রবি মৌসুমে সময় মতো বৃষ্টি না হওয়া, সেচ কাজে বেশি খরচ ও শ্রমের দাম বেশি হওয়ায় ফলন ভালো হওয়া সত্বেও কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে হতাশা প্রকাশ করেছে এ উপজেলার কৃষকরা।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, পদ্মার ঊর্বর পলল ভূমিতে মুড়িকাঠা পেয়াজের আবাদ বেশ উপযোগী। এ বছর এই উপজেলায় প্রায় ৬৯৫ হেক্টর জমিতে মুড়িকাঠা পেয়াজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে চরভদ্রাসন ইউনিয়নে ৩০৫ হেক্টর, গাজিরটেকে ২৯০, চর হরিরামপুরে ১০০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা পেয়াজের আবাদ হয়েছে।উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম জানায়, আমাদের দেশে মৌসুমের শুরুতে বিদেশি পেয়াজ দেখা গেলেও দাম কমের ক্ষেত্রে তার খুব একটা প্রভাব পরে না। এই উপজেলায় গতবারের চাইতে এ বছর পেয়াজের আবাদ বেশি হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় কৃষকরা পেয়াজের দাম কম পাচ্ছে বলেও তিনি জানান।এস.এম. তরুন/ এমএএস/পিআর