দেশজুড়ে

গাজীপুরে গৃহবধূ হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

গাজীপুরে এক গৃহবধূকে হত্যার দায়ে আবুল কালাম ওরফে কালু মিয়া (৬৫) এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. ফজলে এলাহী ভূইয়া এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অপর একটি ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কালু মিয়া গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বাসন চান্দপাড়া এলাকার আব্দুল মান্নান ওরফে মনা চৌধুরীর ছেলে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একই এলাকার নাছির আলী গাইনের ছেলে নাজিম উদ্দিন ও জালাল উদ্দিন এবং কান্দুর আলীর ছেলে ফজলুল হককে বেকসুর খালাস দেন আদালত।গাজীপুর জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি মো. আতাউর রহমান খান জানান, চান্দপাড়া এলাকার আবুল কালাম ওরফে কালুর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে ১৯৯৯ সালে ভিকটিম দুই সন্তানের জননী করিমন নেছা তার স্বামী চান মিয়াকে তালাক দেন। ঘটনাটি ভিকটিমের পরিবার মেনে নিচ্ছিল না। এক পর্যায়ে ওই বছরে ১২ জানুয়ারি মায়ের সঙ্গে রাগ করে বোন রহিমন নেছার বাড়িতে চলে যান করিমন। বোনের বাড়িতে ইফতার খেয়ে রাত সাড়ে ৭টার দিকে বাপের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন করিমন নেছা। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলে। বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজ করেও সন্ধান মেলেনি। এরপর ওই বছরের ২৫ জানুয়ারি দুপুরে ভিকটিমের বাবার বাড়ির কাছে একটি পুকুরের কচুরিপানার নিচে তার মরদেহের সন্ধান মিলে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সফিজ উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জয়দেবপুর থানা পুলিশের ওসি দীর্ঘ তদন্ত শেষে আবুল কালাম ওরফে কালু মিয়াসহ একই এলাকার নাছির উদ্দিনের ছেলে নাজিম উদ্দিন ও জালাল উদ্দিন এবং কান্দুর আলীর ছেলে ফজলুল হককে অভিযুক্ত করে থানায় চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক। মামলায় আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি মো. আতাউর রহমান। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ও আব্দুর রশীদ।আমিনুল ইসলাম/আরএআর/এমএস