আদালতে দোষ স্বীকার করায় গাজীপুরে ধর্ষণ মামলায় চার্জ গঠনের দিনই এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ জাহেদ মনসুর এ আদেশ প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. হুমায়ুন কবির (৩০), তিনি ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার দাদার গ্রামের মৃত আব্বাস উদ্দিনের ছেলে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ এলাকার রোহা গ্রামের ভিকটিম গাজীপুরের সাইনবোর্ড এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি ও বসবাস করতেন। হুমায়ুনের সঙ্গে পরিচয় সূত্র ধরে ভিকটিমকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। একপর্যায়ে ২০১১ সালের ১১ এপ্রিল রাতে ভিকটিমের ভাড়া বাসায় এসে তাকে ধর্ষণ করে। পরে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। ভিকটিম বারবার তাগিদ দিলেও হুমায়ুন তাকে বিয়ে করেনি। একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যায় এবং এক কন্যা সন্তান জন্ম দেন। তারপরও হুমায়ুন ভিকটিমকে বিয়ে না করে তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাতে থাকেন। ২০১৫ সালের ২৩ মে হুমায়ুনকে আসামি করে জয়দেবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ভিকটিম। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জয়দেবপুর থানা পুলিশের এসআই অজয় চক্রবর্তী গত বছর ৩১ ডিসেম্বর হুমায়ুন কবিরকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি ফজলুল কাদের জানান, মঙ্গলবার আসামির উপস্থিতিতে এ মামলার চার্জ গঠনের দিন ধার্য ছিল। বিচারকের সামনে আসামি নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। আসামি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করায় এবং এ ধরনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য চার্জ গঠনের দিনই বিচারক এ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন। আদালতের রায়ে আরও বলা হয়, তাদের শিশু কন্যা (বর্তমান বয়স ১ বছর ৮ মাস) আসামি হুমাায়ুন কবীর ও ভিকটিমের বাবা ও মা হিসেবে পরিচয় প্রদান করতে পারবে। কন্যা শিশুটির ভরণপোষণ বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্র বহন করবে। রাষ্ট্র এই মর্মে ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণ করবে এবং প্রদেয় অর্থ ধর্ষক আসামি মো. হুমায়ুন কবির থেকে আদায় করে নিতে পারবেন।মো. আমিনুল ইসলাম/এএম/জেআইএম