দেশজুড়ে

মায়ের পর এবার মিললো সেই নবজাতকের মরদেহ

স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে নবজাতক সন্তানসহ নিখোঁজ হয়েছিলেন মানসিক প্রতিবন্ধী রহিমা বেগম (২৫)। স্বামী বাড়ি ফিরলেও না ফেরার দেশে চলে যান রহিমা। আর মায়ের সঙ্গে নিখোঁজ হওয়া তার আড়াই মাসের শিশুপুত্রের মরদেহ মিললো ১০ দিন পর।গত ২১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এগাসিন্দুর ইউনিয়নের মীরারটেক এলাকা থেকে পুলিশ রহিমার মরদেহ উদ্ধার করে। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে মীরেরটেক এলাকায় একটি জঙ্গল থেকে আমিরুল নামে ওই শিশুটির গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।পুলিশ জানায়, পাকুন্দিয়া উপজেলার বুরোদিয়া ইউনিয়নের পাবদা গ্রামের মৃত মো. আলীর মেয়ে রহিমা মানসিক প্রতিবন্ধী। তার বিয়ে হলেও স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। একপর্যায়ে একই গ্রামের সোহরাবের ছেলে নজরুল ইসলাম মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তার আত্মীয়রা বিয়ে করার জন্য নজরুলকে চাপ দেয়। কিন্তু রহিমার চাচা সম্পর্কিত নজরুল নানা টালবাহানা করতে থাকেন। এরই মধ্যে গত ২ মাস আগে রহিমার একটি ছেলে সন্তান হয়। গত ১০ জানুয়ারি চাপের মুখে নজরুল রহিমাকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এর তিনদিন পর ১৩ জানুয়ারি বেড়ানোর কখা বলে সন্তানসহ রহিমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু নজরুল তিনদিন পর বাড়ি ফিরে এলেও রহিমার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।গত ২১ জানুয়ারি রাতে মীরার টেক এলাকা থেকে রহিমার মরদেহ উদ্ধার করা হলেও তার শিশুপুত্রের কোনো হদিস মিলছিল না। এ ঘটনায় ২২ জানুয়ারি রহিমার ভাই আব্দুল আউয়াল বাদী হয়ে নজরুল ইসলামসহ চারজনকে আসামি করে পাকুন্দিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি।নূর মোহাম্মদ/এএম/আরআইপি