বাসে উঠতে না দেয়ার জেরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পরিবহন শ্রমিক ও ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় গাড়ি ভাঙচুরও করা হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো চান্দনা চৌরাস্তা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন সৌরভ বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা কেপি পরিবহনের বাস উঠতে গেলে পরিবহন শ্রমিকরা তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাকবিতাণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা কয়েকজন ছাত্রকে মারধর করে ধরে নিয়ে যায়। এ খবর পেয়ে ছাত্ররা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ জানায় এবং কলেজের সামনে ঢাকা-টাঙ্গাঈল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা চান্দনা চৌরাস্তার দিকে অগ্রসর হলে শ্রমিকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।গাজীপুর জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান আহমেদ সরকার জানান, কালিয়াকৈর-জয়দেবপুর রুটে চলাচলকারী কাউন্টার সার্ভিসের কেপি পরিবহনের একটি বাস পরিস্কার করার জন্য স্থানীয় শাপলা ম্যানশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় কয়েকজন ছাত্র ওই বাসে উঠে এবং চালককে ছাড়তে জোর করে। এনিয়ে ছাত্ররা শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। এক পর্যায়ে কাউন্টার বক্সটি উল্টে ফেলে দেয় এবং কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। মহাসড়কে পুরাতন টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জয়দেবপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শহিদুল্লাহ জানান, বিকেল ৩টার দিকে বাসে না উঠানো নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ ও কয়েকটি বাস আটকে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়।আমিনুল ইসলাম/এআরএ/আরআইপি