দেশজুড়ে

কীটনাশক প্রয়োগে বোরো রোপা গাছে পঁচন

দিনাজপুরের কাহারোলে ইরি-বোরো ধানে আগাছা দমনে এস.এ.এম এগ্রো কোম্পানির `অরনেট` ব্যবহার করে প্রায় ১৪৫.২৫ একর জমির বোরো ধানের রোপা পঁচন রোগ দেখা দিয়েছে।কাহারোলের মুকুন্দপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর, বিক্রমপুর, প্রসাদপুর, চকপ্রাণ কৃষ্ণ ও ডহণ্ডা গ্রামের ৯০ জন কৃষকের প্রায় ১৪৫.২৫ একর জমির বোরো ধানের রোপা পচন রোগ রোগ দেখা দিয়েছে।এ ব্যাপারে ৮৩ জন কৃষক স্বাক্ষরিত এক লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা কৃষি অফিসার বরাবর দাখিল করেছে। অভিযোগে জানা গেছে, এস,এ,এম এগ্রো কোম্পানীর আগাছা দমনের কীটনাশক “অরনেট” ব্যবহার করে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।চকপ্রাণ কৃষ্ণ গ্রামের মোঃ আমাতুল হক জানান, কাহারোল উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের অধিবাসী বিক্রমপুর নামক স্থানে মেসার্স বুলু ট্রেডার্সের মোস্তাফিজুর রহমান বুলুর কীটনাশকের দোকান থেকে অরনেট কীটনাশক ক্রয় করে জমিতে প্রয়োগ করি। এরপর থেকে বোরো ধানের রোপা পঁচন রোগ দেখা দিয়েছে। আগাছা না মরে ধানের চারার রং হলুদে বিবর্ণ হয়ে চারা মরে যেতে শুরু করেছে। ৫০ দিন অতিবাহিত হলেও রোপা ধানের চেহারার উন্নতির লক্ষ্মন দেখা যাচ্ছে না। এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে।একই অভিযোগ করে প্রসাদ পাড়া গ্রামের ব্রজ মোহন রায় জানান, এস.এ.এম এগ্রো কোম্পানীর আগাছা দমনের কীটনাশক `অরনেট` ব্যবহার করে আমাদের ধানের চারা বিবর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে। এ থেকে উত্তোলনের কোথাও কোন ভাল পরামর্শ পাচ্ছি না। ক্ষেত থেকে ফসল না পেলেতো পথে বসতে হবে।এস.এ.এম এগ্রো কোম্পানির কাহারোল উপজেলা মার্কেটিং অফিসার নিরঞ্জন ঠাকুর এস.এ.এম এগ্রো কোম্পানির আগাছা দমনে কীটনাশক অরনেট ব্যবহার করে কৃষকদের ক্ষতির কথা স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কিছু দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা ক্ষতিগ্রস্থ কৃষদের নির্দেশনা মোতাবেক সহযোগিতা করছি।এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আখেরুল রহমান জানিয়েছেন, কোম্পানির আগাছা দমনের কীটনাশকটি সম্পর্কে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানার পর ক্ষতিগ্রস্থ কৃষককে সহযোগিতার জন্য উপ-সহকারী কৃষিকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশ দিয়েছি। এবং কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের ডিডিকে অবগত করা হয়েছে।এমজেড/আরআই